অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা ও এর সীমাবদ্ধতার আইনি ও কারিগরি দিকসমূহ পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের সঙ্গে নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে আটটি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত ঘটনা এবং একই সঙ্গে নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্য—এই দুই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করাই ছিল কমিটির মূল লক্ষ্য।
তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত প্রতিবেদনে বর্তমানের অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছতাহীন কাঠামো থেকে বেরিয়ে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক এবং অডিটনির্ভর ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা (টু-লেয়ার ট্রান্সপারেন্সি মডেল) সম্বলিত আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিটির মতে, এ কাঠামো বৈশ্বিক মানসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
প্রতিবেদন প্রণয়নে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ)-এর দিকনির্দেশনা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও চর্চা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং বাংলাদেশের প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সুপারিশের মধ্যে জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্তির প্রস্তাব এবং টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর ধারা ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ ও ৯৭গ সংশোধনের একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত সংস্করণ গেজেটভুক্ত করেছে। এছাড়া অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানেরও সুপারিশ করেছে কমিটি।
প্রতিবেদনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পর-সম্পূরক হিসেবে বিবেচনার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।