জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের নামে প্রহসনের কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে।
এমন সময় স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মান্ধ রাজনৈতিক শক্তি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নস্যাৎ করতে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট দাবি করে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশে প্রভাব ফেলতে টাকার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে এবং নির্বাচনের আগে সংগঠিতভাবে নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা চলছে—এমন তথ্য বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া যাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে যে, স্বাধীনতাবিরোধী জামাত-শিবির সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের মাঝে নিজেদের পক্ষে ভোট দেওয়ার শর্তে অর্থ বিতরণ করছে। কোথাও কোথাও তারা জনগণের প্রতিরোধের মুখেও পড়ছে।এছাড়া ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এক আইনজীবীকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় অর্থ বিতরণ করতে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ে এক নেতাকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটক করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এসব ঘটনাকে নির্বাচনি আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, অর্থ, পেশিশক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি ও সাম্প্রদায়িক প্রচারণা থেকে মুক্ত একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
তাই আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যারা অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনা বা ফলাফল প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীরবতা বা শিথিলতা জনগণ মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করা হয়।
পাশাপাশি দেশের সচেতন নাগরিক ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বলেছে, কোনো প্রলোভন বা অর্থের কাছে নতি স্বীকার না করে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং ভোট কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে হবে।