জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ‘সবুজ ও টেকসই সমাজ’ নিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দলগুলোর অগ্রাধিকার এক নয়, এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের কাছে পরিষ্কার বাতাস, নিরাপদ পানি ও শক্তিশালী পরিবেশ সুরক্ষা এখন প্রধান চাহিদা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মনোযোগ এখনও অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেষ করে সড়ক ও সেতু নির্মাণ কেন্দ্রিক।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় ব্র্যাক সেন্টারে ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ ও টেকসই অর্থনীতি’ শীর্ষক জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। পরিবেশ-ঝুঁকিপূর্ণ ১৫০টি নির্বাচনী এলাকায় ১২০০ ভোটার ও ৪৫০ জন রাজনৈতিক প্রতিনিধি নিয়ে এই জরিপ পরিচালিত হয়।
জরিপে দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশের বেশি ভোটার বায়ুদূষণকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অনেক এলাকায় নদীভাঙন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, বন্যা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ পুনরুদ্ধারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এবং বৃক্ষরোপণ ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোকে প্রধান উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তবে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানো বা নির্গমন নিয়ন্ত্রণের মতো বড় নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের গুরুত্ব তুলনামূলক কম বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ৭০ শতাংশের বেশি ভোটার মনে করেন, বিদ্যমান পরিবেশ আইন ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয় এবং সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের গুরুত্ব স্বীকার করলেও স্বল্পমেয়াদি ব্যয় বৃদ্ধি হলে তা গ্রহণে ভোটার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের অনীহা দেখা গেছে।
সিপিডির মতে, ভোটারদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়লেও নির্বাচনী রাজনীতি এখনও প্রচলিত উন্নয়ন ধারণা অবকাঠামো ও দৃশ্যমান প্রকল্প ঘিরেই সীমাবদ্ধ। ফলে ভোটারদের পরিবেশ কেন্দ্রিক প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি স্পষ্ট ফাঁক তৈরি হয়েছে।