জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বাঁধাই সম্পন্ন করে ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এনসিটিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী স্তরে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬১টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩টি বই রয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ৬ হাজার ২৬টি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫টি পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়েছে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যবহৃত কাগজের মান পরীক্ষার জন্য এনসিটিবি দপ্তরে ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সিসিটিভির মাধ্যমে অনলাইন মনিটরিং এবং এনসিটিবি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সরেজমিনে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বইয়ের ছাপার মান ও বাঁধাইয়ের উৎকর্ষ নিশ্চিত করা হয়েছে।মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্যরাও মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে সময়মতো বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছেন।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিটিবি সকল স্তরের পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ (সফটকপি) সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে। এনসিটিবির ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd) প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে।
গত ৫ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবারই দ্রুততম সময়ে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শতভাগ বই সরবরাহে মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় লেগেছিল।
এনসিটিবি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি, বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মুদ্রণ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক সহায়তার ফলেই গুণগত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এনসিটিবি আশা প্রকাশ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের এই ফলপ্রসূ সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
২০২৬ সালের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের এই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে এনসিটিবি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।