চোটে জর্জরিত আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ জুড়ে ভুগেছেন স্কালোনি

চোটে জর্জরিত আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ জুড়ে ভুগেছেন স্কালোনি

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই চোট ছিল কোচ লিওনেল স্কালোনির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একের পর এক খেলোয়াড়ের শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেই ফাইনালে পৌঁছেছিল আলবিসেলেস্তেরা।

যুক্তরাষ্ট্রে দলের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগেই একাধিক ফুটবলার চোট নিয়ে যোগ দেন।গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, গনসালো মন্তিয়েল, নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা ও লিওনেল মেসি।  প্রত্যকেই কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

ফলে প্রস্তুতির বড় একটি অংশে তাদের আলাদাভাবে অনুশীলন করতে হয়। এমনকি বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগে ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি পায়ের পেশিতে চোট পেয়ে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যান।তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয় মার্কোস সেনেসিকে।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই সুস্থ হয়ে ফিরলেও পুরোপুরি ফিট ছিলেন না সবাই। এমিলিয়ানো মার্তিনেজও বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র চার দিন আগে প্রথমবারের মতো গ্লাভস পরে অনুশীলন করেন। ডান হাতের অনামিকায় চোট নিয়ে খেলতে হয়েছে তাকে।

গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় জর্ডানের বিপক্ষে খেলতে পারেননি ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এরপর অবশ্য বড় কোনো নতুন চোট ছাড়াই নকআউট পর্ব পার করে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।

তবে একের পর এক কঠিন ম্যাচ, অতিরিক্ত সময়ে খেলা এবং কম বিশ্রামের প্রভাব পড়ে ফাইনালে। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন দুই নিয়মিত সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে লিসান্দ্রোর জায়গায় নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। দ্বিতীয়ার্ধে রোমেরোও আর খেলতে না পারায় তার পরিবর্তে মাঠে নামেন ফাকুন্দো মেদিনা। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের বড় একটি সময় নিজেদের প্রথম পছন্দের দুই সেন্টারব্যাক ছাড়াই খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পজিশনে এমন চোট আমরা আশা করিনি। শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের চারজনের মধ্যে তিনজনকে বদলাতে হয়েছে। এটা অজুহাত নয়, তবে এত ধকল সামলে এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলাটা খুব কঠিন। ছেলেরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছে, কিন্তু শতভাগ ফিট না থাকলে এমন দলের বিপক্ষে ভুগতেই হয়।’

বিশ্বকাপজুড়ে একের পর এক বাধা পেরিয়ে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত চোট আর শারীরিক ধকলের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি আর্জেন্টিনা। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা হারানোর পেছনে এটিও ছিল অন্যতম বড় কারণ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS