পাঁচ বছর বয়সে হাঁপানি, তবুও থামেননি প্রিয়াঙ্কা

পাঁচ বছর বয়সে হাঁপানি, তবুও থামেননি প্রিয়াঙ্কা

শৈশব থেকেই হাঁপানিতে ভুগেছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার হাঁপানি ধরা পড়ে।দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্টের সমস্যা সামলেও তিনি জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ জয় করেছেন। শৈশবে হাঁপানি ধরা পড়লে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

শিশুর হাঁপানি ধরা পড়লে অনেক বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ছোটবেলা থেকেই ইনহেলার ব্যবহার, শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি এবং নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ায়।তবে প্রিয়াঙ্কার মতে, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে কিছু নিয়ম মেনে চললেই হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা জানান, পাঁচ বছর বয়সে তার হাঁপানি ধরা পড়ে।এরপর থেকে দীর্ঘদিন ক্রনিক শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগেছেন। হাঁপানির আক্রমণ হলে কষ্ট হলেও তিনি কখনও ভেঙে পড়েননি। পরিবারের, বিশেষ করে বাবা-মায়ের সহযোগিতা তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।

তার পরামর্শ, হাঁপানিতে আক্রান্ত শিশুদের ঠান্ডা লাগা থেকে যতটা সম্ভব রক্ষা করতে হবে। বাইরে বের হলে ধুলোবালি ও ধোঁয়া এড়াতে নাক-মুখ ঢেকে রাখা ভালো। ইনহেলার সবসময় সঙ্গে রাখা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি। তিনি হাঁপানিকে জীবনের একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য শারীরিক সমস্যা হিসেবে দেখেছেন বলেই আত্মবিশ্বাস হারাননি।

বাবা-মায়েরা কোন কোন লক্ষণে চিনবেন
দেশে যেভাবে দূষণ বাড়ছে, তাতে হাঁপানি আরও জমিয়ে বসছে। হাঁপানির কষ্টে ভোগেন সারা বছরজুড়ে এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। গরমে, বর্ষায়, শীতে বা ঋতু বদলেও হাঁপা‌নির হাত থেকে রেহাই নেই। হয়তো তীব্রতার তারতম্য আছে, কিন্তু কষ্ট কমবেশি লেগেই থাকে। ছোটদের সর্দি-কাশি হয়ে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে না হাঁপানি হয়েছে, তা বুঝতে কিছু লক্ষণ চিনতে হবে।

১. রাতের বেলা শ্বাসকষ্ট তীব্র হবে, ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে আসতে পারে।

২. হাঁপানির টান উঠলে শ্বাসনালির চারপাশের মাংসপেশি সঙ্কুচিত হয়ে যায়। ফলে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে থাকে। তখন শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে ‘সাঁই সাঁই’ শব্দ হয়, দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে।

৩. অল্পেই হাঁপিয়ে পড়া, সিঁড়ি ভাঙলে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট বা দম আটকে আসার অনুভূতি হতে পারে।

৪. রাতের বেলা কাশি বাড়বে, শুকনো কাশি যেকোনো মৌসুমেই থাকবে। ওষুধ খেয়েও কাশি সারবে না।

৫. ধুলো-ধোঁয়া, ফুলের রেণু বা পশুর লোম থেকে অ্যালার্জি বাড়বে, হাঁচি-কাশি ও সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে থাকবে।

৬. শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা হতে পারে, ভারী কিছু চেপে বসার অনুভূতি হবে। খাবার গিলতেও কষ্ট হবে।

কী নিয়ম মানতে হবে
দূষিত পরিবেশ হাঁপানির কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। ঘরের ভেতরের বাতাস যাতে বিশুদ্ধ থাকে, তা দেখতে হবে। দরকারে ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ লাগাতে হবে।

হাঁপানি হলে ইনহেলার দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। হাতের কাছে সব সময় ইনহেলার রাখতে হবে। ছোটদের ইনহেলার ব্যবহারের নিয়ম শিখিয়ে দিতে হবে।

হাঁপানি হলে ব্যায়াম করা যাবে না, এ ধারণা ভুল। প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত প্রাণায়াম, অনুলোপ-বিলোম, কপালভাতি ও কিছু যোগাসন অভ্যাস করলে হাঁপানির কষ্ট অনেক কম যাবে।

স্থূলতাও আরও একটা বড় সমস্যা। যে শিশুদের ওজন বেশি এবং তার সঙ্গে রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম, তাদেরই শ্বাসজনিত রোগ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS