News Headline :
বিএসইসির মার্জিন বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাল ডিবিএ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়ারান টেক্স রপ্তানি বহুমুখীকরণে হালাল পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: হাসান আরিফ সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথেই ফয়সালা: ডা. ইরান সমৃদ্ধির স্বার্থেই ঢাকার পাশে প্রয়োজন বেইজিংকে: মির্জা ফখরুল বরিশালকে বঞ্চিত করে সুষম উন্নয়ন হবে না: জামায়াত আমির ধর্মীয় চরমপন্থা রুখতে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার প্রসার অপরিহার্য ১৮ জুলাই: শহীদের রক্তের ওপর কোনো সংলাপ নয় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’ শুরু হবে রোববার সমালোচনা করুন, তবে অপসাংবাদিকতা গ্রহণযোগ্য নয়: আতিকুর রহমান রুমন
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় নিহত ৫৯, ত্রাণ বরাদ্দ ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় নিহত ৫৯, ত্রাণ বরাদ্দ ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে দেশের সাত জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন।সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে, সেখানে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাসহ ৩২ জন মারা গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার।এ পর্যন্ত ত্রাণ হিসেবে নগদ ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ৯ হাজার ৫০ টন চাল, ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ– এই সাত জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ৫৬টি উপজেলা এবং ৩৭৪টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা পানিবন্দি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, নিহত ৫৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ৩২, চট্টগ্রামে ১৬, বান্দরবানে সাত, রাঙ্গামাটিতে তিন এবং মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫, চট্টগ্রামে ১২, বান্দরবানে দুই এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাত জেলায় মোট ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে ২৯৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে চট্টগ্রাম। জেলাটিতে নগদ ৭৫ লাখ টাকা, ১ হাজার ২০০ টন চাল, এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, গোখাদ্য, শিশুখাদ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা নগদ, ৪৫০ টন চাল, এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, ৩০ লাখ টাকা গৃহ নির্মাণ সহায়তা, গোখাদ্য, শিশুখাদ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে ২৫ লাখ টাকা নগদ, ৪০০ টন চাল, গোখাদ্য, শিশুখাদ্য, ৫৪৬ বান্ডিল টিন, গৃহ নির্মাণে ১৫ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটিতে ৩০ লাখ টাকা নগদ, ৫০০ টন চাল, ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বান্দরবানে ২৫ লাখ টাকা নগদ, ৪০০ টন চাল, শিশু ও গোখাদ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মৌলভীবাজারে ১৫ লাখ টাকা নগদ, ২০০ টন চাল, ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণে ছয় লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০ লাখ টাকা, ২০০ টন চাল ও প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ধাপে ধাপে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৭ জেলায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ৩৫০ টন চাল, ৪২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ মজুরি এক কোটি ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দেশের বাকি ৫৭ জেলার জন্যও সাধারণ ত্রাণ হিসেবে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ও ৫ হাজার ৭০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের সর্বমোট ৬৪ জেলার জন্য ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ও ৯ হাজার ৫০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পৃথকভাবে নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া যায়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS