যুব উন্নয়নে দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

যুব উন্নয়নে দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

দেশের যুবসমাজকে শুধু দক্ষ করে তুললেই হবে না, তাদের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সংকট বাড়ছে।শিশু-কিশোরদের আচরণ ও কথাবার্তায়ও উগ্রতার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে একটি পৃথক সেশন অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আমেনা বেগম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রকৃত অর্থে নৈতিক শিক্ষা প্রায় অনুপস্থিত। তাই নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যুবকদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে সেটিই হবে প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় সাফল্য।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুবসমাজকে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘আর্ন’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নয় লাখ ‘নিট’ (শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা) তরুণ-তরুণীকে বাজারের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি দেশের সৃজনশীল ও ক্রীড়া শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এ প্রকল্প সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তির ভিত্তিতে ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনকে সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

এর মধ্যে ব্র্যাক ঢাকা ও রংপুর বিভাগে, সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল বিভাগ এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর জেলা ও সিলেট বিভাগে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চার অংশীদারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলায় পাঁচ হাজার গ্রামভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নয় লাখ তরুণ-তরুণীকে সমসাময়িক ও বাজারের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর ফলে তাদের আত্মকর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াও আরও শক্তিশালী হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ জশ, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) ড. মেরিনা নাজনীনসহ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

এছাড়া সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত, কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. এস এম খলিলুর রহমান এবং ব্র্যাক এডুকেশনের ডিরেক্টর সাফি রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS