‘নেইবার্স’ অভিনেতা টেরেন্স ডোনোভান মারা গেছেন

‘নেইবার্স’ অভিনেতা টেরেন্স ডোনোভান মারা গেছেন

ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় অভিনেতা টেরেন্স ডোনোভান (৯০) মারা গেছেন। জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘নেইবার্স’ ও ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি ব্যাপক পরিচিত ছিলেন।তার পরিবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

ডোনোভানের ছেলে ও অভিনেতা জেসন ডোনোভান জানান, তার বাবা শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে মৃত্যুবরণ করেন।

জেসন ও তার ভাই পল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আমাদের বাবা ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ। তিনি ছিলেন আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আমরা তাকে খুব মিস করবো। তবে শেষ সময়ে আমরা সবাই তার পাশে থাকতে পেরেছি, এটাই আমাদের সান্ত্বনা।
পরিবারের বার্তায় আরও বলা হয়, তিনি জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করেছেন। তার বিশ্বাস ছিল, জীবন হয় এক দুঃসাহসিক অভিযান, নয়তো কিছুই নয়। এমন একজন বাবাকে পেয়ে আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করি।

লন্ডনে জন্ম নেওয়া টেরেন্স ডোনোভান ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে প্রচারিত অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ নাটক ‘ডিভিশন ৪’ ও ‘কপ শপ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

কৈশোরে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার পর ডোনোভান প্রথমে গায়ক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। এক দশক পর তিনি ‘ডিভিশন ৪’-এ ডিটেকটিভ মিক পিটার্স এবং ‘কপ শপ’-এ ডিটেকটিভ সিনিয়র সার্জেন্ট ভিক ক্যামেরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

১৯৯০-এর দশকে টেরেন্স ডোনোভান জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘নেইবার্স’-এ ডাগ উইলিস চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এর কিছুদিন আগেই তার ছেলে জেসন ডোনোভান ওই ধারাবাহিক ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ ধারাবাহিকে অ্যাল সিম্পসন চরিত্রেও অভিনয় করেন।

প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে টেলিভিশনের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র ও মঞ্চেও সমানভাবে কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ম্যান ফ্রম স্নোই রিভার’ ও ‘ব্রেকার মোরান্ট’।

বাবাকে স্মরণ করে জেসন ডোনোভান বলেন, ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অনুষ্ঠানগুলো অস্ট্রেলিয়ার পর্দায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছিল, তখন তার বাবা অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের উন্নয়ন এবং সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

জেসন ডোনোভান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তার বাবা টেরেন্স ডোনোভান মেলবোর্নের রাস্তায় ‘টিভি মেক ইট অস্ট্রেলিয়া নাউ’ লেখা ব্যানারের নিচে পদযাত্রা করছেন।

ছবিটির সঙ্গে জেসন লেখেন, সেই প্রচারণার ফলে বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য অস্ট্রেলিয়ান গল্প ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার মতো মানুষের অবদান না থাকলে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের এতটা উন্নতি হতো না। পরোক্ষভাবে ‘দ্য ম্যান ফ্রম স্নোই রিভার’, ‘ব্রেকার মোরান্ট’, ‘পিকনিক অ্যাট হ্যাঙ্গিং রক’, ‘প্রিসিলা’, ‘মুরিয়েলস ওয়েডিং’, ‘ক্রোকোডাইল ডান্ডি’ এবং ‘স্ট্রিক্টলি বলরুম’-এর মতো বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান চলচ্চিত্রও হয়তো তৈরি হতো না।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS