আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের লড়াইয়ের ঠিক আগে কোটি কোটি দর্শকের সামনে পারফর্ম করেছিলেন। তিনি আর্জেন্টাইন পপ ও রেগেটন সেনসেশন মারিয়া বেসেরা।
ম্যাচের আগে তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে বিশ্বের নজর কাড়েন। রিভার প্লেটের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের গণ্ডি পেরিয়ে কীভাবে ‘লা নেনা দে আর্জেন্টিনা’ আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে।জেনে নিন তার গল্প।
বুয়েনস আইরেস শহরের কাছেই কিলমেস এলাকায় বেড়ে ওঠেন মারিয়া।মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ইউটিউবে নিজের ব্লগ, মজার ভিডিও এবং গানের কভার ভিডিও আপলোড করা শুরু করেন। তার চমৎকার ব্যক্তিত্বের কারণে দ্রুতই সেখানে ৩ মিলিয়নেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার হয়ে যায়, যা তার ভবিষ্যৎ সংগীত ক্যারিয়ারের একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
২০১৯ সালে মারিয়া একটি সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন; একজন পেশাদার সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি তার আগের সব ইউটিউব কনটেন্ট মুছে ফেলেন। এরপর তিনি তার প্রথম ইপি ‘222’ প্রকাশ করেন, যেখানে পপ, ট্র্যাপ ও আরঅ্যান্ডবির এক দারুণ মিশ্রণ ছিল।
এই ইপির ‘হাই’ গানটি তুমুল জনপ্রিয় হয় এবং পরবর্তীতে টিনি ও লোলা ইন্ডিগোর সঙ্গে এর রিমিক্স সংস্করণটি তাকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২০২১ সালে মারিয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এক বড় মোড় আসে। কলম্বিয়ান সুপারস্টার জে বালভিন তার রেগেটন ট্র্যাক ‘¿Qué Más, Pues?’-এর জন্য মারিয়াকে বেছে নেন। গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং স্পোটিফাই গ্লোবাল চার্টের শীর্ষ ২০-এ জায়গা করে নেয়। এই গানটির মাধ্যমেই লাতিন আমেরিকার বাইরে বিশ্বমঞ্চে মারিয়ার কণ্ঠ কোটি কোটি মানুষের কাছে পরিচিতি পায়।
সঙ্গীত জগতে ‘লা নেনা দে আর্জেন্টিনা’ (আর্জেন্টিনার মেয়ে) ডাকনামে পরিচিত মারিয়া বেসেরা মিউজিক চার্টগুলোতে দাপট বজায় রেখেছেন। বিলবোর্ড আর্জেন্টিনা হট ১০০ চার্টের শীর্ষ ১০টি গানের মধ্যে একাই পাঁচটি স্থান দখল করে একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েন তিনি। প্রথম কোনো শিল্পী হিসেবে এই অনন্য রেকর্ড গড়েন মারিয়া।
আমেরিকান বিনোদন জগতে মারিয়ার পথচলা আরও বিস্তৃত হয় যখন তিনি হলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ফাস্ট এক্স’-এর সাউন্ডট্র্যাকের জন্য নির্বাচিত হন। সিনেমার প্রচারে তার ‘Te Cura’ গানটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলের দর্শকদের কাছে তার গানকে পৌঁছে দেয়।
আর দশজন সাধারণ আর্জেন্টাইনের মতোই মারিয়া বেসেরাও ফুটবলের একনিষ্ঠ ভক্ত। লিওনেল মেসি এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির দল ‘লা স্কালোনেতা’-র (আর্জেন্টিনা জাতীয় দল) প্রতিটি জয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মারিয়ার উদযাপন প্রায়শই ভাইরাল হয়। বড় বড় টুর্নামেন্টে নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিনি দলকে প্রতিনিয়ত সমর্থন জুগিয়ে যান।