ফ্রি ট্রেড জোনে (এফটিজেড) আমদানি কার্যক্রম আরও সহজ করা এবং ব্যাংকগুলোর ঋণঝুঁকি কমাতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নির্দেশনায় এফটিজেডে পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য আমদানি, ব্যাংক অর্থায়ন, বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন, ঋণের মেয়াদ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ (এফইপিডি-১) থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার-২১ জারি করা হয়। এটি দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক ও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ফ্রি ট্রেড জোনে পরিচালিত উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত আমদানিকারক এবং অনুমোদিত লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার আওতায় আমদানি করতে পারবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সংরক্ষণ, গুদামজাত বা বিতরণের জন্য বিদেশি সরবরাহকারীর মালিকানা বজায় রেখে পণ্য আমদানি করা যাবে।অর্থাৎ, উৎপাদনে ব্যবহার বা চূড়ান্ত ক্রেতার কাছে বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত পণ্যের মালিকানা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছেই থাকবে। ফলে ওই সময় পর্যন্ত এসব পণ্যকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মজুদ হিসেবে ধরা হবে না এবং ব্যাংকও এসব পণ্যের বিপরীতে কোনো ঋণঝুঁকি নেবে না।
এফটিজেড থেকে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য কিনলে তা আমদানি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রচলিত আমদানি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অন্যদিকে, এফটিজেডের কোনো প্রতিষ্ঠান দেশের বাজারে সমাপ্ত বা আধা-সমাপ্ত পণ্য বিক্রি করলে বিক্রেতার জন্য তা রপ্তানি এবং ক্রেতার জন্য আমদানি হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে প্রচলিত রপ্তানি ও আমদানি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এসব লেনদেনের অর্থ পরিশোধ অবাধে রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় করতে হবে। একইসঙ্গে এফটিজেডে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো বৈদেশিক মুদ্রার মার্জিন অ্যাকাউন্টে বিক্রির অর্থ জমা রেখে বিদেশি সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ করতে পারবে।
নতুন নীতিমালায় বিদেশি সরবরাহকারীর মালিকানাধীন আমদানি করা পণ্য ৪৮ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত ফ্রি ট্রেড জোনে সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া বায়ার্স ক্রেডিট বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটসহ সব ধরনের ইউস্যান্স আমদানির সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৭০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংক অর্থায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানের মতোই এফটিজেডের প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করতে পারবে। তবে পণ্যের মালিকানা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক কোনো ঋণঝুঁকি গ্রহণ করবে না। মালিকানা হস্তান্তর এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হওয়ার পরই এ ধরনের পণ্যের বিপরীতে অর্থায়ন করা যাবে। একইসঙ্গে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোও বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধি অনুযায়ী অর্থায়নের সুযোগ পাবে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে যথাযথ যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থায়নের আগে বিদেশি সরবরাহকারী ও ক্রেতার সঙ্গে চুক্তি, মালিকানার কাঠামো, উৎপাদন সক্ষমতা, বিক্রয়চক্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে তবেই অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।