এইচএসসি আন্দোলনে কারা প্রভাব বিস্তার করেছে, তদন্তে ডিবি

এইচএসসি আন্দোলনে কারা প্রভাব বিস্তার করেছে, তদন্তে ডিবি

দাবি মেনে নেওয়ার পরও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইন্ধন বা উসকানি ছিল কি না তার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর পুলিশ গোয়েন্দা প্রধান (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, পরীক্ষা পেছানোর দাবি করে কিছু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে কার কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদে গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপরও কেন শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে আন্দোলন করল এবং এ আন্দোলনের পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বা উসকানি ছিল কি না, তা ব্যাপকভাবে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে অনেকে পরীক্ষার্থী নয়।পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। যারা পরীক্ষার্থী, তারা সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট।সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গত সোমবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সামনে রেখে কেউ কেউ ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করতে একটি মহল যে রয়েছে, তা দৃশ্যমান। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে এই আন্দোলন করছে।

অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরপরই কিছু শিক্ষার্থীকে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে। একই ধরনের ঘটনা চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ঘটছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে কেউ কেউ সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীকে হেয় করে বক্তব্য দিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে, আগে থেকেই কিছু শিক্ষার্থীকে কী বলতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফেসবুক লাইভে এসে একই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী প্রয়োজনীয় ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পরও শিক্ষার্থীদের লংমার্চ কর্মসূচি পালন করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পেছনে কারা প্রভাব বিস্তার করেছে, কারা তাদের উসকানি জুগিয়েছে, সেসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে। এরপর তারা শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এলাকায় অবস্থান শেষে বিকেলে সংসদ ভবনের সামনের এলাকায় জড়ো হয়। সেখানে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দিলেও আবারও সন্ধ্যার পর অবস্থান নেয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাত ১০টায় ‘লংমার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা এলাকা ত্যাগ করে।

বন্যার কারণে চট্টগ্রামের সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখার দিন বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত অন্যান্য বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা দেড়টা থেকে আন্দোলনকারীরা সায়েন্সল্যাব মোড়, ইসিবি চত্বর ও উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হয়। সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেওয়া পরীক্ষার্থীরা নীলক্ষেত হয়ে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে শিক্ষা ভবনের সামনে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা শিক্ষা ভবন এলাকা ছেড়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়।

শিক্ষা ভবনের সামনে আন্দোলন নিয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। প্রধানমন্ত্রী এখানে (সচিবালয় এলাকা) অফিস করেন। এখানকার কোনো বিষয় আমরা ছোট করে দেখি না। যার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS