সিদ্ধান্ত ছাড়াই থেমে গেল রাশিয়া–ইউক্রেন শান্তি আলোচনা

সিদ্ধান্ত ছাড়াই থেমে গেল রাশিয়া–ইউক্রেন শান্তি আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা বুধবার হঠাৎ করেই শেষ হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনাকে ‘কঠিন’ বলে উল্লেখ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রক্রিয়া বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লিখেছেন, রাশিয়া এমন কৌশল নিচ্ছে যাতে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে দেরি হয়। তার দাবি, আলোচনা ইতোমধ্যে শেষ ধাপে পৌঁছাতে পারত।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, জেলেনস্কির মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরই আলোচনা শেষ হয়। রাশিয়ার প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কি বলেন, শিগ্‌গিরই নতুন দফার বৈঠক হবে, তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক স্থায়ী হয়।

ট্রাম্পের মন্তব্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেন, আলোচনায় সফলতা আনতে ইউক্রেনকে দ্রুত সমঝোতায় আসতে হবে।এ বিষয়ে জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বলা ন্যায্য নয়।

তিনি আরও বলেন, পূর্ব দোনবাস অঞ্চলে রাশিয়া পুরোপুরি দখল করতে পারেনি— এমন ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হলে ইউক্রেনীয় জনগণ তা গণভোটে প্রত্যাখ্যান করবে।

রাশিয়ার একটি সূত্রের দাবি, আলোচনা ছিল ‘খুব উত্তেজনাপূর্ণ’ এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক ফরম্যাটে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তম উমেরভ জানান, বৈঠকে সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বাস্তব দিক ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এই বৈঠক যুদ্ধ অবসানের পথে ‘অর্থপূর্ণ অগ্রগতি’ এনেছে এবং উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। মেদিনস্কি দাবি করেন, আলোচনা কঠিন হলেও তা ছিল ‘ব্যাবসায়িক ও গঠনমূলক’।

তবে রাশিয়া এখনও পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে, যা কিয়েভ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

এদিকে ইউক্রেন সরকার অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনীয়দের হত্যায় সহায়তার দায়ে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিকোলাই পাত্রুশেভ সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যদি নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে, তবে তা মোকাবিলায় রাশিয়ার নৌবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।

শান্তি আলোচনা নতুন দফায় কবে শুরু হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS