বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন ‘রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের চলন্ত বগিতে বাইরে থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ট্রেনের ক্যান্টিন স্টাফ মো. সবুজ। এ ঘটনায় ট্রেনটির যাত্রী ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত কয়েকদিনের মধ্যে মোকশেদপুর ও নগরকান্দার মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়-ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ করেই বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা পাথর নিক্ষেপ করলে তা সবুজের মাথায় লাগে।এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সবুজের মাথায় ৭টি সেলাই লেগেছে বলে জানিয়েছেন ক্যান্টিনে কর্মরত সহকর্মী মোহাম্মদ কনক।
রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের ক্যান্টিন কর্মী কনক বলেন, “এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।প্রায়ই আমরা যখন চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালন করি, তখন বাইরে থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাথর ছোড়া হয়। এতে কেবল আমরাই নই, অনেক যাত্রীও আহত হয়েছেন। আমরা এখন ডিউটি করতে ভয় পাচ্ছি।”
জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের আরেকজন ক্যান্টিন কর্মচারী মোহাম্মদ তুষার শেখ জানান, শুধুমাত্র তার দেখা অভিজ্ঞতাতেই গত ছয় মাসে ১৩ থেকে ১৪ বার একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রুপসীবাংলা এক্সপ্রেসে কর্মরত টেকনিশিয়ান হারুন অর রশিদ বলেন, “প্রতিনিয়ত এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের ভেতরে ভয়ের সৃষ্টি করেছে। বেশিরভাগ সময় লোহাগড়া থেকে ভাঙ্গা এলাকার ভেতরে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে যার ফলে আমাদের স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হচ্ছে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে চাই না, দ্রুত এই পরিস্থিতির পরিত্রাণ চাই।”
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সবসময় তৎপর বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা (সিটিও) বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দণ্ডনীয় অপরাধ।আমরা নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করছি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বেশি পাথর ছোড়া হয়, সেসব চিহ্নিত স্থানগুলোতে জিআরপি (রেলওয়ে পুলিশ) ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আরও জানান, আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি এবং ট্রেনগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাথর নিক্ষেপের মতো অপরাধ রোধে কেবল পুলিশি পাহারা যথেষ্ট নয়। রেললাইনের পাশের গ্রাম ও বসতিগুলোতে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়া, রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষা আইন অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে কারো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
ভুক্তভোগী রেলকর্মীরা বলছেন, পাথর নিক্ষেপের মতো এই ‘খেলার’ বলি হয়ে তারা আর কত রক্ত দেবেন? তারা চান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুধু কথার ফুলঝুরি না ছড়িয়ে বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক, যাতে কর্মীরা নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।