ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দল ও দলের মনোনীত প্রার্থী এবং বঞ্চিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ইশতেহার ঘোষণার প্রোগ্রামে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় রাজনৈতিক দলের ৯৭০ জনের বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক, ১৫০টির বেশি স্থানীয় পত্রিকা এবং জেলা প্রতিনিধিদের থেকে প্রাপ্ত খবর ও তথ্য অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী সহিংসতার প্রতিবেদন প্রকাশের ধারাবাহিক অংশ।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে নির্বাচনকেন্দ্রিক ১৬২টি সহিংসতার ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং ৯৭০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির তিনজন, জামায়াতের একজন এবং ইনকিলাব মঞ্চের একজন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী সহিংসতার ১৬২টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৪০টি ঘটনায় অন্তত ৩৩৪ জন আহত এবং তিনজন নিহত হয়েছেন।এছাড়া ৫০টি বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৫৬০ জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন। দুটি বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছেন। আটটি বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ৩৯ জন আহত হয়েছেন এবং ৮টি বিএনপি-অন্যান্য দলের সংঘর্ষে ৩২ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে আরও দুটি ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।
প্রচার-প্রচারণার সময়ে নারী সহিংসতা, হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ১২টি ঘটনায় কমপক্ষে ১৮ জন নারী হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং ছয়জন নারী আহত হয়েছেন। হেনস্তার শিকার নারীদের মধ্যে ১৭ জন জামায়াত সমর্থক এবং একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থক। তবে ১২টি হেনস্থা ও হামলার ঘটনায় ১১টিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা এবং একটি ঘটনায় জামাতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২৫টি ঘটনায় ৩৪ জনকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।এর মধ্যে ১৫টি ঘটনায় বিএনপি, একটি ঘটনায় জামাত এবং ৯টি ঘটনায় অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ১৭টি হুমকি এবং আটটি হামলার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।
দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে হেনস্তা ও হামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে প্রচারণার সময়ে ১৩টি পৃথক ঘটনায় ১৩ জন প্রার্থী নানাভাবে হেনস্তা, লাঞ্ছনা ও হামলার শিকার হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এইচআরএসএস’র প্রধান উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী মো. নূর খান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদিরসহ অন্যান্যরা।