শাহরুখ খানের সিনেমা মানেই বক্স অফিসে উৎসব। গত কয়েক বছরে ‘পাঠান’ আর ‘জওয়ান’ দিয়ে সে উৎসব বেড়েছে কয়েক গুণ। শাহরুখ খানের নতুন সিনেমা ‘কিং’–এর পরিবেশনা নিয়ে তাই শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ দৌড়ে আছে একাধিক ভারতীয় বড় পরিবেশক প্রতিষ্ঠান। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রস্তাব এসেছে ২০০ কোটি রুপি, সঙ্গে কমিশনও।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স প্রযোজিত সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক হিসেবে যশ রাজ ফিল্মসের নাম ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই ভারতীয় পরিবেশক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পরিবেশনার জন্য একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংস্থা প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এর মধ্যে আছে এ. এ. ফিল্মস, যশ রাজ ফিল্মস, জিও স্টুডিওস, পিভিআর ইনক্স পিকচার্স, পেন মারুধর এবং ধর্মা প্রোডাকশনস। তবে এই মুহূর্তে পেন মারুধর, জিও স্টুডিওস ও পিভিআর ইনক্সকেই ফ্রন্ট-রানার হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ প্রস্তাব হিসেবে শোনা যাচ্ছে, ২০০ কোটি রুপি অগ্রিম এবং তার সঙ্গে ৮ শতাংশ কমিশন—যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় কমিশনভিত্তিক চুক্তি হতে চলেছে। কমিশনভিত্তিক এই ডিস্ট্রিবিউশন মডেল বর্তমান ইন্ডাস্ট্রি ট্রেন্ডের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আধুনিক সময়ে সরাসরি স্বত্ব কিনে নেওয়ার মডেল অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে; বেশির ভাগ স্টুডিও এখন হয় নিজেদের ইন-হাউস ডিস্ট্রিবিউশন টিম রাখে, নতুবা স্বাধীন পরিবেশকদের সঙ্গে কমিশন ভিত্তিতে অংশীদার হয়। পেন মারুধরের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা ও নিয়মিত কাজের অভিজ্ঞতা। শাহরুখ খানের আগের দুটি ছবি ‘জওয়ান’ ও ‘ডাঙ্কি’—দুটিরই পরিবেশনায় ছিল পেন মারুধর।

অন্যদিকে পিভিআর ইনক্স আগেও রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট এবং পেন মারুধরের সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে কাজ করেছে। ভারতের বৃহত্তম মাল্টিপ্লেক্স চেইনের মালিক হওয়াটা তাদের বড় শক্তি। জিও স্টুডিওসও জোরেশোরে পরিবেশনা ব্যবসায় পা বাড়াচ্ছে, তাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ‘কিং’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া।
‘পাঠান’ পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ ভারতে মুক্তি পাওয়ার কথা ২৪ ডিসেম্বর। এর এক সপ্তাহ আগেই হলিউডের বড় বাজেটের ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’ মুক্তির তালিকায় রয়েছে। সরাসরি কোনো ক্ল্যাশ না থাকলেও, ভালো শো পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণেই শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এই ছবির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।