News Headline :
ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রামে নেবে ট্রেইনার, পদ ৮টি, স্নাতক পাসে আবেদন এপস্টেইনের পাম বিচের বাড়িতে মাইকেল জ্যাকসনও গিয়েছিলেন দক্ষিণ এশীয় সমাজবাস্তবতা নিয়ে ‘মাস্টার’, বলছেন কারমেন ও আশিম ২৬ তারিখে বিজয়ের সঙ্গে বিয়ে? কী ইঙ্গিত দিলেন রাশমিকা এস আলমের মামলা লড়তে ব্রিটিশ ল ফার্ম নিয়োগ, ঘণ্টায় ব্যয় হবে ১ হাজার ২৫০ ডলার ‘অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপে’ বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ ‘আইসিসি ভারতের কাছে জিম্মি, নতুন সংস্থা দরকার’ ক্রিকেটের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল এমসিসি এপস্টেইন ফাইল: সাক্ষ্য দিতে রাজি ক্লিনটন দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার নির্দেশ ইরানি প্রেসিডেন্টের
কোথাও যাবো না, পাসপোর্ট দিয়ে দিয়েছি: অর্থ উপদেষ্টা

কোথাও যাবো না, পাসপোর্ট দিয়ে দিয়েছি: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তিনি পাসপোর্ট জমা দিয়ে দিয়েছেন এবং আর কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পাসপোর্ট দিয়ে দিয়েছি। আমি আর কোথাও যাবো না।উপদেষ্টাদের অনেকেই তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এখন আমাদের নতুন করে পাসপোর্ট করতে হবে। আপনাদের মতো অর্ডিনারি পাসপোর্ট নিয়ে এখন আমার ঘোরাঘুরি করতে হবে।

তিনি বলেন, খুব জরুরি কোনো বিষয় ছাড়া আমি সাধারণত বিদেশে কোনো মিটিংয়ে যাই না।শুধু আমি না, অনেকেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছে। আমাদের তো সারেন্ডার করতেই হবে।

পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমার ওয়াইফও জমা দিয়েছে। আমি কি একা একা কাজ করি? ও খুব কমই ট্রাভেল করে।

ওর পাসপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে।

অর্ডিনারি পাসপোর্টে ভিসা নেওয়ার সুবিধার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ভিসা নিয়ে কখনো সমস্যা হয়নি। আমি তো সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করতাম।

নির্বাচনের তিন দিন আগে একটি সরকারি টিম ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছে, মেয়াদ শেষের শেষ মুহূর্তে কেন এমন সফর- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর দেবো না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার যে চুক্তি করতে যাচ্ছে সেটা কি নির্বাচিত সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, সেটার ব্যাপারে আমি জানি না।এই বিষয়ে আমি ইনভলভ না। আমাকে জিজ্ঞেস করে লাভ কী?

রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা ভাগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখন অনেকটাই সিরিয়াস পর্যায়ে এসেছে। তবে রুলস অব বিজনেস এবং ম্যানপাওয়ার প্ল্যানিংয়ের কিছু কাজ বাকি আছে। আইনের কোনো ইস্যু নেই। অর্গানোগ্রাম চূড়ান্ত করার বিষয়টি জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয় দেখছে।

কিছু সচিব নাকি এতে বাধা দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। এটা একটা ন্যাশনাল বিষয়। সবাই বলছে, এটা ভালো জিনিস। এটা না করলে বাংলাদেশের রাজস্ব খাতে কালেকশন আর পলিসিতে কোনো উন্নতি হবে না।

নির্বাচনে গণভোট আয়োজন করতে কত টাকা খরচ হয়েছে, জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সুনির্দিষ্ট অঙ্ক আমি জানি না। খুব বেশি না। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন হয়। সিসি ক্যামেরা, নিরাপত্তা এসব বিষয়ে আমরা কার্পণ্য করিনি। যা চাওয়া হয়েছে, তা দেওয়া হয়েছে।

গণভোটে হ্যাঁ’র প্রচারণায় নির্বাচন কমিশনকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব হিসাব বেশ জটিল এবং নির্বাচন কমিশনই তা পরিচালনা করে।

দেশের অর্থনীতি একটি সন্তোষজনক জায়গায় রেখে যাবেন বলে মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সন্তোষজনক মানে স্টেবল। আগের মতো নড়বড়ে অবস্থায় নেই। সামনে যে সরকার আসবে, তাদের জন্য বড় কোনো অসুবিধা হবে না।

দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে দেশের অর্থনীতিকে কোন অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল জায়গায় রয়েছে।

এই সরকার সর্বোচ্চ ঋণ করেছে, এ বিষরয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, সর্বোচ্চ ঋণ করেছি, আবার সর্বোচ্চ ঋণ শোধও দিয়েছি। ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ করেছি। পাবলিক সেক্টরের যেসব কাজ ছিল, সেগুলো করতে হয়েছে।

উন্নয়ন আগের মতো হয়নি। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজ কিছুটা থেমে গেছে। আমরা আগের মতো কর্ণফুলী টানেলের মতো ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পে যাচ্ছি না।

তাহলে এত ঋণ কেন নিতে হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের সরকারের নেওয়া প্রতিশ্রুতি ও প্রকল্পগুলো আমরা বাতিল করিনি, সেজন্য ঋণ নিতে হয়েছে।

অর্থনীতি সন্তোষজনক হলেও বেকারত্ব বেড়েছে, এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কর্মসংস্থান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। কর্মসংস্থানের জন্য দরকার ছিল ছোট ও মাঝারি শিল্প। সেখানে আমাদের পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। বড় কারখানায় লেবার ইনটেনসিটি কম।

একদিকে সন্তোষজনক, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ, বিষয়টি স্পষ্ট করার কথা বললে উপদেষ্টা বলেন, স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন এটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা যা করেছি, সেটাকে আরও কনসোলিডেট করতে হবে।

শেষদিকে তিনি বলেন, আইনি কাঠামো, সফট লোনসহ নানা জটিল বিষয় আছে। এগুলো বিস্তারিত বলতে গেলে আলাদা করে আলোচনা করতে হবে। আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ালে তখন বক্তৃতা দেব। 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS