তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জাহানারার অভিযোগের আংশিক সত্যতা

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জাহানারার অভিযোগের আংশিক সত্যতা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা অভিযোগ নিয়ে গঠিত স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত শেষে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে। চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির ক্ষেত্রে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।


বিসিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করে।  ২ ফেব্রুয়ারি কমিটির প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রতিবেদনের সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানোর পর এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, জাহানারার উত্থাপিত চার অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘কমিটি জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।তবে বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ নারী দলের তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কমিটি।’

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জাহানারা একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্ন করেছেন। জাহানারা তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয়গুলো নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের বরাবর চিঠি দিয়েও কোন ফলপ্রসু সমাধান পাননি।  পরবর্তীতে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি।

২ ফেব্রুয়ারি এই কমিটিই বোর্ডের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দেন।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং বোর্ডের গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত আইনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের ২০০৯ সালের নির্দেশনার আলোকে একটি স্থায়ী অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার দায়িত্বে রয়েছেন বিসিবি পরিচালক ও নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাবা দৌলা।


বিসিবি আরও জানায়, মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে বোর্ডের চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত কিছু আচরণ আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। এ কারণে প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বিসিবির আইনি বিভাগকে বিষয়টি হস্তান্তর করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS