নানা বিতর্ক, আইনি জটিলতা আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসানকে আবারও বাংলাদেশের জার্সিতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিশ্বকাপের ভরাডুবি আর বিসিবির অভ্যন্তরীণ রদবদলের মাঝে হুট করেই দেশের সফলতম এই অলরাউন্ডারকে ফেরানোর জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই ইস্যুতে এবার মুখ খুলেছেন জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি’ টুর্নামেন্টে ধূমকেতু একাদশের প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন সালাহউদ্দিন।
বুধবার মিরপুরে সাকিবের ফেরা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখুন, যদি কেউ বলে যে সাকিবকে আমি টিমে চাই না, তবে আমার মনে হয় আমরা এখনও বোকার রাজ্যে বাস করছি।’
সাকিবের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘সাকিবের মতো ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় গুণ হলো সে দলে ভারসাম্য নিয়ে আসে। দিন শেষে সাকিব যদি ফিট থাকে, তবে তাকে যেকোনো দলই চাইবে। এটা আসলে প্রশ্ন করার মতো কোনো বিষয় নয়।’
সম্প্রতি বিসিবির বোর্ড সভায় পরিচালক আসিফ আকবর জানান, সাকিবকে আবারও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এবারের চুক্তিতে থাকতে পারেন মোট ২৭ জন ক্রিকেটার।
আসিফ আকবর বলেন, ‘বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সাকিবের প্রাপ্যতা, ফিটনেস এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকলে নির্বাচক প্যানেল তাকে অবশ্যই বিবেচনায় নেবে।’
এছাড়া গ্লোবাল টুর্নামেন্টগুলোতে খেলার জন্য বোর্ড তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাকিবের রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা নিরসনে বিসিবি সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল সরাসরি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে। বিসিবির আরেক পরিচালক আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, তারা চান সাকিব যেন দেশের মাটিতে খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সুযোগ পান।
সাকিব বর্তমানে দেশের বাইরে থাকলেও বিসিবির এই নমনীয় অবস্থান এবং কোচের এমন সমর্থন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সব ঠিক থাকলে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই হয়তো আবারও ‘৭৫’ নম্বর জার্সিধারীকে মাঠ কাঁপাতে দেখা যাবে।