বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের ব্যয় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা বাড়ছে। প্রকল্পের ১১টি নির্মাণ প্যাকেজে অতিরিক্ত কাজ, নকশা সংশোধন এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে ভেরিয়েশন অর্ডার (ভিও) অনুমোদনের ফলে এই ব্যয় বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজের পরিধি বৃদ্ধি, প্রকৌশল নকশার পরিবর্তন এবং বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হওয়ায় ১১টি প্যাকেজে ভেরিয়েশন অর্ডারের প্রস্তাব আনা হয়।অনুমোদনের ফলে অধিকাংশ প্যাকেজের চুক্তিমূল্য মূল চুক্তির তুলনায় ৩৫ থেকে প্রায় ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ডব্লিউপি-০৫ (পার্ট-১) প্যাকেজে আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রথম ভেরিয়েশন অর্ডারে ১০৯ কোটি ৫ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে।এতে ৫৯৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার মূল চুক্তিমূল্য ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডব্লিউপি-০৬ (পার্ট-১) প্যাকেজে হেগো-মীর আখতার জেভির দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারের মাধ্যমে ২৯১ কোটি ৮২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে।ফলে প্যাকেজটির ব্যয় মূল চুক্তির তুলনায় ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে।
ডব্লিউপি-০৭ (পার্ট-১) প্যাকেজে আবদুল মোনেম লিমিটেডের দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারে ৩৮৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে, যা মূল চুক্তির তুলনায় ৪৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি।
ডব্লিউপি-০৮ (পার্ট-১) প্যাকেজে সিপিসি-ট্যান্টিয়া জেভির দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারে ২৬৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। এতে চুক্তিমূল্য ৪৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডব্লিউপি-০৯ (পার্ট-১) প্যাকেজে কেএমসি-মনিকো জেভির দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারে ৩৪৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে চুক্তিমূল্য ৪৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে, ডব্লিউপি-১০ (পার্ট-১) প্যাকেজে চায়না কনস্ট্রাকশন সেভেন্থ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন করপোরেশন লিমিটেডের তৃতীয় ভেরিয়েশন অর্ডার অনুমোদনের ফলে চুক্তিমূল্য ৪৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১০০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বেশি হয়েছে।
ডব্লিউপি-১১ (পার্ট-১) প্যাকেজে একই প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারে ২৫৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে চুক্তিমূল্য ৪৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়েছে।
একইভাবে, ডব্লিউপি-১২ (পার্ট-১) প্যাকেজে দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডারের মাধ্যমে ৯৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ৭২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বেশি, যা মূল চুক্তির তুলনায় ৪৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।
ডব্লিউপি-১৩ (পার্ট-১) প্যাকেজে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপের (সিআরবিজি) প্রথম ভেরিয়েশন অর্ডারের ফলে চুক্তিমূল্য ৪৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৭৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
ডব্লিউপি-১৪ (পার্ট-১) প্যাকেজে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রথম ভেরিয়েশন অর্ডারের মাধ্যমে ৮৬ কোটি ২৬ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে। এতে চুক্তিমূল্য ৩৪ দশমিক ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া, ডব্লিউপি-১৫ (পার্ট-১) প্যাকেজে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) ও ফাইবার হোম টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগের প্রথম ভেরিয়েশন অর্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়ে সংশোধিত চুক্তিমূল্য ২০৪ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি হয়েছে, যা মূল চুক্তির তুলনায় ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মহাসড়কটির চার লেনে উন্নয়নকাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নির্মাণকাজ এবং প্রকৌশলগত পরিবর্তনের কারণেই এসব ভেরিয়েশন অর্ডারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে বলে তারা আশা করছেন।