পলাতক আসামিকে অন্য দেশে আশ্রয় দিয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক সুযোগ দেওয়া একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার চরম অবমাননা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৭ বছর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে নিজের পরিবার ও দলের লোক ছাড়া এ দেশের সাধারণ মানুষকে মানুষ বলেই বিবেচনা করেননি। ক্ষমতা যখন কারও হাতে অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে, তখন তা শাসককে গ্রাস করে এবং এক ভয়াবহ স্বৈরাচারে পরিণত করে।শেখ হাসিনাও সেই আদর্শেই পরিচালিত হয়েছেন।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতার কড়া সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও কীভাবে প্রতিবেশী দেশ একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ও গণহত্যার পলাতক আসামিকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া ও অডিও কনফারেন্স করার সুযোগ দেয়? গত ৫ আগস্ট, যেদিন হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তে তার পতন হয়েছে, সেই দিনটিতেই তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বকে অপমান করার শামিল।
তিনি বলেন, অত্যাচারী বরগিদের বিরুদ্ধে যেভাবে এ দেশের মানুষ ও তৎকালীন স্বাধীন নবাবরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি বাংলাদেশের মানুষও দীর্ঘদিন অত্যাচার-পীড়ন সহ্য করলেও শেষ পর্যন্ত রক্তচোষা দানবকে তাড়িয়ে ছেড়েছে। এ দেশের মানুষ কখনো দীর্ঘকাল অত্যাচার সহ্য করে না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। ছোটখাটো নিজেদের ঝগড়া-বিবাদ বা মতভেদের কারণে যদি গণঅভ্যুত্থানের ঐক্য বিনষ্ট হয়, তবে আবারও চোরাগলি দিয়ে পতিত ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। ফ্যাসিবাদ আবার এলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে এবং কেউ রেহাই পাবে না।
রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে, বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ এবং টিকাদান কর্মসূচি বাড়িয়েছে। গণমাধ্যমের উচিত কেবল সমালোচনা না করে এসব জনকল্যাণমুখী ও ইতিবাচক কাজও বস্তুনিষ্ঠভাবে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরা।