দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলকে উদ্দেশ করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের যদি লাগাম না ধরা হয়, বিএনপি যদি তাদের টোকাই বাহিনীর লাগাম না ধরে, আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে কোনো ক্যাম্পাসে ১০ মিনিটও দাঁড়াতে পারবা না।
বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক গণজমায়েতে তিনি এ কথা বলেন।
সাদ্দাম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও গণহত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে রাখা হয়েছে। দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও মাত্র ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।কোনো মামলার রায় কার্যকর করা হয়নি। বরং বর্তমান সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাত এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিষয়গুলো আড়াল করতে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গতকাল আমাদের ক্যাম্পাসগুলোতে রক্ত ঝরানো হয়েছে। আজ আমরা বলতে চাই, গতকাল যারা ক্যাম্পাসে হামলা করেছে, তারা কেউ ছাত্র নয়।তারা ছাত্র সন্ত্রাসী, টোকাই। ক্যাম্পাসে যাদের নিয়ে এসেছো, যাদের দিয়ে কমিটি দিয়েছো, তাদের ছাত্রজীবন শেষ হয়েছে ১৫-২০ বছর আগে। তাদের সন্তানরাও এখন ছাত্রদল করার বয়স পার করেছে। এই আদুভাইদের দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গায়ে হাত তুলেছো।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে, কেরানীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা টোকাই জঙ্গিদের নিয়ে আসা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার চিত্র আমরা দেখেছি। গতকাল কাপুরুষের মতো রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের হল দখল করা হয়েছে। তেজগাঁও কলেজের সাকিবকে মাদককাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ছাত্রদলের বিরোধিতা করায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। মাদকের বিরোধিতা করায় ঠাকুরগাঁওয়েও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সাদ্দাম বলেন, আমরা বলতে চাই, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের যদি লাগাম না ধরা হয়, বিএনপি যদি তাদের টোকাই বাহিনীর লাগাম না ধরে, আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে কোনো ক্যাম্পাসে ১০ মিনিটও দাঁড়াতে পারবা না। ইসলামী ছাত্রশিবির সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে।