টি-শার্ট টানিয়ে পেনাল্টি কর্নার অনুশীলন!

টি-শার্ট টানিয়ে পেনাল্টি কর্নার অনুশীলন!

আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে চলছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের নিবিড় অনুশীলন। জার্মান হেড কোচ পিটার গেরহার্ডের অধীনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এখন নিজেদের নতুন করে ঝালিয়ে নিচ্ছেন।টুর্নামেন্টে সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের লক্ষ্যে আপাতত আক্রমণভাগ ও গোল করার দক্ষতার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন কোচ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ হকি দল অনুশীলনে ফিনিশিং টাচ, পেনাল্টি কর্নার (পিসি) আদায় এবং বক্সের ভেতর দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিখুঁত শট নেওয়ার বিষয়ে খেলোয়াড়দের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন কোচ গেরহার্ড।

পেনাল্টি কর্নার বা পিসি থেকে গোল আদায়ে বাংলাদেশ দলের পুরোনো দুর্বলতা কাটাতে অনুশীলনে অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কোচ। নিজের কৌশল সম্পর্কে পিটার গেরহার্ড বলেন, ‘আজ আমরা আক্রমণ ও গোল করার কৌশল নিয়ে কাজ করেছি।

পেনাল্টি কর্নারের উন্নতির জন্য বিশেষ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। যেমন আমরা গোলপোস্টের নির্দিষ্ট কোনায় একটি টি-শার্ট বেঁধে দিই।এরপর খেলোয়াড়দের ৫০টি পিসি নিতে বলা হয় এবং এর মধ্যে ৪৫ বারই তাদের ওই টি-শার্টে বল আঘাত করতে হয়।’

খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসিয়ে কোচ আরও বলেন, ‘ছেলেরা খুব দ্রুত নতুন কৌশল আয়ত্ত করছে। মাঠে তারা নতুন অনেক কিছুই করে দেখাচ্ছে। আপাতত আমরা শুধু আক্রমণভাগ নিয়ে কাজ করছি। আসন্ন জার্মানি সফরে আমরা রক্ষণভাগ এবং ‘টিম বন্ডিং’ (দলকে এক সুতোয় গাঁথা) নিয়ে কাজ করব।’

জার্মান কোচের ‘সিম্পল’ তত্ত্বে খুশি খেলোয়াড়রা
কোচের এই আধুনিক ও বাস্তবসম্মত (গেম সিচুয়েশন) অনুশীলনে বেশ সন্তুষ্ট খেলোয়াড়রা। দলের মিডফিল্ডার সাইদুর রহমান সাজু বলেন, ‘উনি (কোচ) সাধারণ কিন্তু আধুনিক হকিতে যা প্রয়োজন, সেটাই করাচ্ছেন। বাংলাদেশে আগে যা প্র্যাকটিস করানো হতো, তার চেয়ে উনার কাছে ভালো কিছু রয়েছে। গেম সিচুয়েশনে যা দরকার, উনি সেগুলোই করাচ্ছেন। আমরা সিনিয়র-জুনিয়র মিলে দারুণ একটি কম্বিনেশন তৈরি করে সামনের দিকে এগোচ্ছি।’

এশিয়ান গেমসের আগে দলের প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রাখবে আসন্ন জার্মানি সফর। সেখানে ১৫-১৬টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে জাতীয় দলের। সাজুর মতে, কোচের পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের পরিশ্রম মিলে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে এবার ভালো একটি ফলাফল আশা করছে দল।

নতুন কমিটির ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট দল
শুধু মাঠের অনুশীলনই নয়, মাঠের বাইরে হকি ফেডারেশনের নতুন কমিটির ব্যবস্থাপনাতেও স্বস্তিতে আছেন খেলোয়াড়রা। গত দুই-তিন সপ্তাহে দলের সার্বিক সুযোগ-সুবিধায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে বলে জানান সাজু।

তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটি আসার পর আমাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনেছেন। আমাদের সবটুকু চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে না পারলেও ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আমরা পেয়েছি। আমাদের খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছু ঠিক হয়েছে। সামনে প্রিমিয়ার লিগসহ বেশ কিছু খেলা আছে। খেলোয়াড় হিসেবে আমরা মাঠে খেলা চাই, আর মাঠে খেলা থাকলে আমরা হ্যাপি থাকি।’

সবমিলিয়ে এশিয়ান গেমসের আগে নতুন কোচ, নতুন ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধার মিশেলে বাংলাদেশ হকি দলে এখন বইছে ইতিবাচক হাওয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS