রাজধানীতে গোপন কিটামিন ল্যাবের সন্ধান, ৩ বিদেশি গ্রেপ্তার

রাজধানীতে গোপন কিটামিন ল্যাবের সন্ধান, ৩ বিদেশি গ্রেপ্তার

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় গোপনে কিটামিন প্রক্রিয়াজাতকরণ ল্যাব স্থাপন করে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চালানো একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ কিটামিন, রাসায়নিক দ্রব্য ও সরঞ্জাম জব্দের পাশাপাশি তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে মাদক পাচারের ওপর দীর্ঘদিন নজরদারির অংশ হিসেবে গত ২৫ মার্চ ঢাকার একটি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার অফিসে অভিযান চালানো হয়।সেখানে একটি ব্লুটুথ স্পিকারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ৫০ গ্রাম কিটামিন উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনার সূত্র ধরে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।সেখান থেকে চীনা নাগরিক লি বিন, ইয়াং চুনশেং ও ইউ ঝে’কে আটক করা হয়।

অভিযানে ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে স্থাপিত অস্থায়ী ল্যাব থেকে ৬ কেজি ৩০০ গ্রাম কিটামিন, সালফিউরিক এসিড, ইথানলসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, ল্যাব সরঞ্জাম, ডিজিটাল স্কেল, প্যাকেজিং যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন এবং দেশি-বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা তরল কিটামিন সংগ্রহ করে ফ্ল্যাটেই তা পাউডারে রূপান্তর করতেন এবং পরে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতেন।

ডিএনসি জানায়, চক্রটি ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মাদকের অর্ডার নিত। পরে ইলেকট্রনিক পণ্যের ভেতরে লুকিয়ে কিটামিন পাঠানো হতো। অর্থ লেনদেনে তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে TRON নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত।

তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তরা নিয়মিত দেশ পরিবর্তন, ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম গোপন রাখত। চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিটামিন একটি শক্তিশালী মাদক, যা স্বল্পমেয়াদে বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন ও শারীরিক নিয়ন্ত্রণহীনতা সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি ও মূত্রথলির ক্ষতি, মানসিক সমস্যা এবং আসক্তির ঝুঁকি বাড়ায়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS