নিরাপত্তার প্রশ্নে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ শুটিং টলিউডে!

নিরাপত্তার প্রশ্নে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ শুটিং টলিউডে!

অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ থাকছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শোবিজ পাড়া টলিউড। মঙ্গলবার থেকে সব ধারাবাহিক ও সিনেমার শুটিং বন্ধ রেখে, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেতাদের নিরাপত্তার দাবি তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োয় অভিনেতাদের সংগঠনের এক বৈঠকের পরে এমনই জানানো হয়।

এর আগে শনিবার (০৩ এপ্রিল) বিকেলে পথে নেমেছিলেন টলিউডের তারকারা।প্রত্যেকের মনে ছিল একটাই প্রশ্ন, কেন এভাবে চলে যেতে হল রাহুলকে? সেই দিন দুপুরেই রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে। ওই দিনই মাঝরাতে কলকাতা থেকে তালসারি থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করেছেন রাহুলের স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। রোববার সন্ধ্যায় আবারো একজোট হয়েছে টলিউড।

রোববার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, যিশু সেনগুপ্ত, রূপাঞ্জনা মিত্র, বিদীপ্তা চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে।

আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে শান্তিলাল জানান, অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে শুটিং। তিনি বলেন, গতকাল আমরা রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলাম আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে। আমরা রাহুলের পরিবারের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।

আর্টিস্ট ফোরামের চার হাজার সদস্য, ফেডারেশনের সাত হাজার টেকনিশিয়ান সদস্য এবং সকল কলাকুশলী মিলে এই সিদ্ধান্ত বলে জানান শান্তিলাল।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার জন্য এবং আমাদের সবার জীবন রক্ষার জন্য এই লড়াই শুরু হল। আমাদের নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। আমরা শুটিংয়ে বেরোচ্ছি। কিন্তু ফিরতে পারব কি না বুঝতে পারি না। রাহুল আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে।তাই মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, আমরা চাইনি। কিন্তু দায় নিতে কেউ এগিয়ে আসছে না। শুটিংয়ের প্রয়োজনে শিল্পী ও কলাকুশলীদের অনেক কিছু করতে হয়। কখনও নদী, কখনও সমুদ্র কখনও বা পাহাড়ে যেতে হয়। কেউ কখনও পিছপা হননি। প্রত্যেকে জীবন সংশয় করে এগিয়ে যান। সবাই নিজের সেরা কাজ করার চেষ্টা করেন। এই ইন্ডাস্ট্রিকে সবাই আমরা বাঁচাতে চাই। লাখ লাখ মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন।

প্রসেনজিৎও একই সুরে বলেন, শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রত্যেকের কাজের সময়ে সুরক্ষা দরকার। নিরাপত্তা যেন সবার জন্য বাধ্যতামূলক হয়। কারণ, প্রত্যেকে এই ঘটনা নিয়ে খুব ভীত।

এখন থেকে প্রত্যেক শুটিংয়ে একটি করে অ্যাম্বুল্যান্স রাখতে হবে, এমন দাবি রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাহুলের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন কিছু দাবির কথা জানিয়েছেন অভিনেতা ও কলাকুশলীরা। তাই রাহুলের মৃত্যুর বিচার চাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তারও দাবি তুলেছেন তারা।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, রাহুল আমাদের ছেড়ে চলে গেল। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। ও যে ভাবে চলে গেল তা কাম্য নয়। ‌ও আমাদের সবাইকে একজোট করে চলে গেল। ওর মৃত্যুই এই প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল, ‘আমরা কি আদৌ নিরাপদ?’ গোটা ইন্ডাস্ট্রি একত্র হয়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেকনিশিয়ান্‌স স্টুডিয়োয় উপস্থিত হবেন আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের সদস্যরা। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের আবেদন, প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলী সকলকে এই দিন সকালে আসতে বলব। দুর্ঘটনা আকস্মিকই হয়। সেগুলোর আন্দাজ আগে থেকে থাকে না। তবে এমন কিছু নিয়মাবলি থাকতে হবে যাতে শিল্পীর মর্যাদা এবং তার পরিবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS