ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ঋণ আদায়ে ৮ পদক্ষেপ

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ঋণ আদায়ে ৮ পদক্ষেপ

দেশের ব্যাংকিং খাতে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপের কথা সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ করে ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের’ চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।এদিন প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়।

সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলো—

তদারকি জোরদার: যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণের পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আলোচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আদায়ের প্রতিবন্ধকতা খুঁজে বের করে সমাধানের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

শীর্ষ ২০ খেলাপির ওপর নজরদারি: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত প্রতিটি ‘ব্যাংকার্স সভা’য় ব্যাংকভিত্তিক শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে।

রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি: যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার অত্যধিক, তাদের জন্য বিশেষ ‘শ্রেণিকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি’ সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইচ্ছাকৃত খেলাপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধিত) আইন অনুযায়ী ‘ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি’ শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

লিগ্যাল টিম শক্তিশালীকরণ: ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান আইন বিভাগ বা লিগ্যাল টিমকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর): বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট: ঋণ ঝুঁকি কমাতে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানের মূল্যায়ন: আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ ভিত্তিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণের বিপরীতে দেওয়া জামানত মূল্যায়নের জন্য তালিকাভুক্ত পেশাদার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এর আগে একই প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS