ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারনে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল সংগ্রহের উদ্যেগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এক লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) জুম অ্যাপে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই অনুমোদন দেয়। সভায় ৩টি নোটিশভূক্ত এজেন্ডা ছিল। এছাড়াও দুই কার্গো এলএনজি আমদানির একটি প্রস্তাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি ৩টি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু ওই সভার পরেই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, বাকি ২টি প্রস্তাব বাতিল হয়। দুটি সভায় সভাপতিত্ত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ৩ দরপত্রের মাধ্যমে ১৭ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব ছিল।
সভায়, কাজাক গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি-এর নিকট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফার মানমাত্রায় ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হয়।
এক লাখ টন বা ৭ লাখ ৪৬ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম পড়বে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ ইউএস ডলার বা ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।
পাশাপাশি সভায় ২ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।
সভা সূত্রে জানা গেছে, দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও-এর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ লাখ টন ৫ শতাংশ (ইএন৫৯০-১০ পিপিএম) মাত্রার ডিজেল এবং ১ লাখ টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড (অকটেন) আমদানির ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দেয়নি।
একই ভাবে জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি-এর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফার মানমাত্রার ডিজেল আমদানির ক্রয় প্রস্তাবটিও বাতিল করেছে কমিটি।