দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদাহরণ স্থাপন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিতব্য ‘ডিজিটাল কৃষক কার্ড’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত বা একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে একসঙ্গে মিনিবাসে যাতায়াত করে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের অন্যতম বৃহৎ মন্ত্রণালয় হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ১৭টি দপ্তর ও সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ‘ডিজিটাল কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে ভর্তুকি ও ন্যায্যমূল্যে সার, উন্নতমানের বীজ, কীটনাশক, সেচ সুবিধা, আবহাওয়া তথ্য, কৃষি পরামর্শ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা।
আগামী পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, এসএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
তবে সভার মূল আকর্ষণ ছিল কর্মকর্তাদের যাতায়াতের ধরন। দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তারা ব্যক্তিগত বা একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে একটি মিনিবাসে একসঙ্গে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যাতায়াত করেন। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় হয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা পৌঁছেছে।
কৃষি সচিব রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফুদ্দিন চৌধুরী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির উদ্দৌলা, মো. সেলিম খান, বিএডিসির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. আজিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম এবং বিএআরসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুস সালামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বাস যাত্রার যাত্রী ছিলেন।