কাতার বিশ্বকাপে দলকে তুলতে না পারা মানচিনিকেই কোচ বানাল ইতালি

কাতার বিশ্বকাপে দলকে তুলতে না পারা মানচিনিকেই কোচ বানাল ইতালি

ইতালির নতুন কোচ হিসেবে আবারও রবার্তো মানচিনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে ৬১ বছর বয়সী এই কোচের নিয়োগ নিশ্চিত করেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আজুরিদের ডাগআউটে ছিলেন তিনি; তার অধীনেই ২০২০ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল ইতালি।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো নতুন এই চুক্তির বিষয়ে আভাস দিয়েছিলেন।২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতালি জাতীয় দলকে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব থাকবে মানচিনির কাঁধে।

মানচিনি তার আগের মেয়াদে ইতালির হয়ে ৬১টি ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন, যার মধ্যে ৩৭টিতে জয়, ১৫টিতে ড্র এবং ৯টি ম্যাচে হার ছিল।তবে সে সময় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছিল তার দল।

মঙ্গলবার ফেডারেল কাউন্সিলের বৈঠকে জিওভান্নি মালাগো বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে ইতালির কোচ হওয়ার জন্য রবার্তো মানচিনিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।তবে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পদের জন্য আমার এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যার সাথে কোচের বিষয়ে মতবিনিময় করা যায়; কারণ ঐক্যমত না থাকলে সব পরিকল্পনা বৃথা। মাত্র পাঁচ মিনিট আগে ক্লদিও রানিয়েরি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন।’

রবার্তো মানচিনির নিয়োগের বিষয়টি মূলত ত্বরান্বিত হয়েছে পাওলো মালদিনি এবং লিওনার্দোর বিদায়ের পর। তারা ইতালির নতুন ফুটবল প্রজেক্টের জন্য আন্দ্রে পিরলোকে কোচ হিসেবে চেয়েছিলেন। মানচিনি ছাড়াও থিয়াগো মোত্তা এবং আন্তোনিও কন্তের নামও আজুরিদের পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে ছিল।

নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ১৬ দিন পর গতকাল ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মালদিনি এবং লিওনার্দো। মূলত ফেডারেশন সভাপতি জিওভান্নি মালাগো আন্দ্রে পিরলোকে কোচ করার প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন।

এসি মিলানের কিংবদন্তি মালদিনি জাতীয় দলের পরিচালক এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা লিওনার্দো ফেডারেশনের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

ইতালির নতুন কোচ নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব ছিল এই জুটির ওপর। গত এপ্রিলে জেন্নারো গাত্তুসো ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পেরে পদত্যাগ করার পর থেকেই পদটি শূন্য ছিল। পিরলোকে চূড়ান্ত করার আগে তারা কার্লো আনচেলত্তি এবং পেপ গার্দিওলার সাথেও আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন।

পিরলোকে কোচ করার সব পরিকল্পনা থাকলেও ফেডারেশন সভাপতি তাকে আটকে দেন। কারণ একটি রাশিয়ান বেটিং কোম্পানির সাথে পিরলোর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি সেই কোম্পানির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই মালদিনি ও লিওনার্দো সভাপতির কাছে ব্যাখ্যা চান এবং পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের নীরবতা ভেঙে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ খুলেছেন আন্দ্রে পিরলো। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান যে, স্রেফ ‘বাণিজ্যিক এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট’ কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে তার ওপর আস্থা রাখার জন্য মালদিনি ও লিওনার্দোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পিরলো লেখেন, ‘খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে আমার পুরো ক্যারিয়ারে আমি সবসময় সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং চুক্তি মেনে কাজ করেছি। যে পেশাদার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, সেটি আরব আমিরাতে কাজ করার সময় শুরু হয়েছিল এবং এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও ক্রীড়া বিষয়ক। একে রাজনৈতিক রং দেওয়ার অর্থ হলো এমন কিছু মতাদর্শ আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যা আমি কখনো প্রকাশ করিনি এবং সমর্থনও করি না।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS