দেশের বিভিন্ন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা আইনের সংস্পর্শে আসা অন্তত ৭০ জন শিশুর বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে গাজীপুর বালিকা কেন্দ্রে একজন, বালক কেন্দ্রে ৫৩ জন এবং যশোরে ১৬ জন রয়েছে।আর এসব কেন্দ্রে থাকা শিশুদের মধ্যে হত্যা মামলায় যুক্ত রয়েছে ২১৪ জন।
সম্প্রতি আইন কমিশনের ‘শিশু আইন, ২০১৩: সংশয়, অসঙ্গতি ও বিভ্রান্তি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইন কমিশন গবেষণার অংশ হিসেবে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা), শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) গাজীপুর, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) যশোর, ফরিদপুরে সেফ হোম এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে।
গত নভেম্বরে তৈরি এ প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত বালিকা শিশুকে রাখার একমাত্র বালিকা কেন্দ্রে ধারণ ক্ষমতা ১৫০ জনের।পরিদর্শনকালে ৯২ জন বালিকার অবস্থান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৯১ জনের বয়স ৯ থেকে ১৮ বছর।আর একজনের বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে। ৯২ জনের মধ্যে ৫৬ জন আইনের সংস্পর্শে আসা বালিকা। এর মধ্যে ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত বালক শিশুকে রাখার জন্য দুটি কেন্দ্র রয়েছে। গাজীপুরে কেন্দ্রে ধারণ ক্ষমতা ৩০০ জনের হলেও ৫৭৮ জন শিশুর অবস্থান দেখতে পায় কমিশন। এর মধ্যে ৯১ জনের বয়স উল্লেখ নেই। ৫৩ জন ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে। বাকিরা ১০ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ৯৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
গাজীপুর বালক কেন্দ্রে গাদাগাদি, বয়স লুকিয়ে অবস্থান
গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগআলী এলাকায় অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি শিশু বন্দি রাখা হয় বলে অভিযোগ সেখানে থাকা সাবেক শিশু বন্দির। তার ভাষ্য, একটি কক্ষে যেখানে সর্বোচ্চ ১০ জন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে গাদাগাদি করে ১৫ থেকে ২০ জন পর্যন্ত শিশুকে রাখা হয়েছিল।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে টঙ্গীর আরিচপুর এলাকার ওই বন্দি বর্তমানে তরুণ আব্দুল্লাহ (ছদ্মনাম) বলেন, কেন্দ্রটিতে শুধু অপ্রাপ্তবয়স্ক নয়, অনেক ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণকেও শিশু হিসেবে সেখানে অবস্থান করতে দেখেছি।
উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্বাসিত হওয়ার কারণ তুলে ধরে আব্দুল্লাহ জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ বন্ধু মিলে একরাতে গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় খেজুরের রস খাওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। যে এলাকায় তারা গিয়েছিলেন সেখানে ডাকাত আতঙ্ক ছিল, যা তারা জানতেন না। সেখানে যাওয়ার পর হঠাৎ স্থানীয় থানা পুলিশ তাদের ঘিরে তল্লাশি করে দুই একজনের কাছ থেকে চাকু উদ্ধার করে—যদিও প্রকৃতপক্ষে সেই চাকু অন্যের খেজুর গাছের রসের হাঁড়ির সঙ্গে বাঁধা দড়ি কাটার জন্য রাখা হয়েছিল। পরে পূবাইল থানায় মামলা হওয়ার পর সকালে গাজীপুর আদালত থেকে তাকে গাজীপুর জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ১৪ দিনের মাথায় তাকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তবে কেন্দ্রে চার থেকে পাঁচ দিন থাকার পরই তার জামিন হয়ে যায়।
আব্দুল্লাহ বলেন, সেই সময় আমার বয়স ছিল ১৬, কিন্তু আমাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠাতে কর্তৃপক্ষ কেন এত দেরি করেছিল তা বলতে পারবো না। কেন্দ্রে আমার নিজের চেয়ে বয়সে অনেক বড় বন্দি দেখেছি—এমনকি এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সী বন্দিও পেয়েছি। শুনেছি, কিছু পরিবার টাকা-পয়সা দিয়ে তাদের সন্তানকে সেখানেই রেখে দিয়েছিল।
আরেকটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি জানান, যেহেতু তিনি নিজে শিশু ছিলেন—বয়স ১৬—তাই গাজীপুর জেলা কারাগারে তাকে ভয়ংকর কোনো বন্দির সঙ্গে না রেখে আলাদা রাখা হয়েছিল, সেখানে ছিল কিছু রাজনৈতিক বন্দি।
কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান বাংলানিউজকে জানান, গাজীপুরের এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণ শিশু বন্দি রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রে আনুমানিক ৭৮০ জন শিশু রয়েছে, অথচ কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত ধারণক্ষমতা ২০০ জন এবং অফিসিয়াল ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। ফলে অতিরিক্ত শিশুদের নিয়ে কেন্দ্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।
মো. এমরান খান আরও জানান, বর্তমানে কেন্দ্রে ১৮ বছর বয়স অতিক্রম করা প্রায় ৩৪ জন রয়েছে। তাদের সাধারণ কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে; প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ হলে আদালতের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে তাদের পাঠানো হবে।
এই ৩৪ জন শিশু বন্দির মধ্যে রয়েছেন—
মো. নূর হাসান (বাবা আবদুর নূর), বাড়ি চট্টগ্রামের বাকলিয়া উপজেলার জামাইবাজার (তৈয়বের কলোনী) এলাকায়। চলতি বছরের ২৩ জুলাই তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি বাকলিয়া থানার মামলা নম্বর ০৮(৬)২৬-এর আসামি, যা নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত।
মেহেদী হাসান মুন্না (বাবা রাসেল), বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার পুনাবাড়িয়া এলাকায়। গত ২ জুলাই তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি রূপগঞ্জ থানার মামলা নম্বর ০১(৭)২৪-এর আসামি, যেখানে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
সাগর মিয়া (বাবা হান্নান হোসেন), স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পশ্চিম আগারগাঁও। তার বর্তমান বয়স ১৮ বছর ৬ মাস ২৪ দিন। তিনি শেরেবাংলা নগর থানার মামলা নম্বর ৬৫(৬)২৩, শিশু মামলা নম্বর ৫৭/২৪ ও জিআর নম্বর ৩৩৯/২৬-এর আসামি; মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার।
মো. রনি মিয়া (পিতা: মৃত আবদুল হোসেন), বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বনগাঁও আদর্শগ্রাম (গুচ্ছগ্রাম) এলাকায়। গত ২৪ জুলাই তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি জিআর নম্বর ২২৩/২৫ ও শিশু মামলা নম্বর ১৩/২৬-এর আসামি; মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারায় দায়ের করা।
মো. এমরান খান আরও বলেন, অনেক শিশু ১৩ বা ১৬ বছর বয়সে বিভিন্ন মামলায় এখানে আসে। পরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে একপর্যায়ে তাদের বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করে। সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আদালতের অনুমতি নিয়ে তাদের সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি এমন একটি ঘটনার কথাও জানান, যেখানে ১৬ বছর বয়সে মামলায় জড়িয়ে এক শিশু শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে এসেছিল। পরে জামিনে বের হওয়ার পর আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। কয়েক বছর পর পুলিশ যখন তাকে গ্রেপ্তার করে, তখন দেখা যায় তার বয়স ২২ বছর হয়ে গেছে—তবু তাকে আবারও এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রেই নিয়ে আসা হয়।
আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত বালক শিশুকে রাখার জন্য যশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে ধারণ ক্ষমতা ৩০০ জনের। এর মধ্যে অবস্থান করছে ২৯৫ জন। এদের মধ্যে বয়স উল্লেখ নেই ৬৯ জনের। ১৬ জন ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে। বাকিরা ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এই কেন্দ্রে হত্যার অভিযোগে রয়েছে ১০৮ জনের বিরুদ্ধে।
আইন কমিশনের মতে, শিশু আদালতে মামলা ও বিচারকের সংখ্যার মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, একই বিচারক বিভিন্ন ধরনের মামলার সঙ্গে শিশু আদালতের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে নানাবিধ জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি উল্লেখ করে আইনের বিভিন্ন বিষয় সংশোধন করতে পরামর্শ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ব্যারিস্টার কুমার দেবুল দে বাংলানিউজকে বলেন, আইন অনুযায়ী ঘটনার দিন যদি কেউ শিশু থাকে তাহলে মামলা ১০-২০ বছর পরে শুনানি হলেও তাদের শিশু হিসেবে গণ্য করতে হবে। এটা আইনেও আছে আদালতের রায়েও আছে। ওই কারণে ওদের কেন্দ্রে রাখতে হচ্ছে। তবে যাদের বয়স বেশি তাদের সংশোধনাগারে আলাদা রাখা উচিত।
কারাগারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ও বাস্তবতা
২৬ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রটি (সাবেক কিশোর সংশোধনাগার) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালনা করে; এটি কারা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় না।
তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো শিশু ১৬ বছর বয়সে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে যায়। সেখানে অবস্থানকালে তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে যায়, তখন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আদালতে আবেদন করে। আবেদনে সংশ্লিষ্ট বন্দির বর্তমান বয়স ও আইনগত অবস্থান তুলে ধরা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশ পেলে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
ফারুক আহমেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা অনেক বন্দির ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার কারণে আদালতের নির্দেশে সাধারণ কারাগারে রাখা হয়। সম্প্রতি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে তারেক মিয়া ওরফে নূর আলম নামে একজনকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে; তার বয়স বর্তমানে ১৮-এর বেশি। এছাড়া রিয়াদ নামে আরও একজন রয়েছেন। তবে তারা দুজনই হাজতি বন্দি, অর্থাৎ তাদের বিচার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে এরকম অনেক বন্দিকে সাধারণ কারাগারে পাঠানো হয়, তবে সেগুলো আদালতের নির্দেশক্রমেই করা হয়।
এদিকে কুমিল্লা কারাগারে আনুমানিক তিন বছর আগে এমন একটি ঘটনার কথা বলেন তৎকালীন জেল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, মারামারির ঘটনায় একজনের মৃত্যুর দায়ে ১৬ বছর বয়সী এক শিশুর ১০ বছরের সাজা হয়। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় তার সাজা হয়। এক পর্যায়ে তার বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছর হয়ে যায়। আদালতের নির্দেশে তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয় এবং বাকি সাজা তাকে সেখানে ভোগ করতে হবে।
আইনি কাঠামোর দুর্বলতা ও সুপারিশ
শিশু আইনে বিধিমালার অভাব উল্লেখ করে আইন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনটির বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে যার প্রয়োগ বিধির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আইনটির প্রণয়নের পর প্রায় ১২ বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি কোনো বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে আইনটির যে বিষয়াদি বিধির ওপর নির্ভরশীল, তা প্রয়োগে অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং এর ফলে আইনটির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
কমিশনের পক্ষ থেকে আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের সুপারিশ তুলে ধরে উপসংহারে বলা হয়, ‘শিশু আইন, ২০১৩’ নিঃসন্দেহে একটি অগ্রগামী ও শিশুবান্ধব আইন। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিভিন্ন সংশয়, অসঙ্গতি ও বিভ্রান্তি এই আইনটির লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে আইনের ভাষাগত স্পষ্টতা, বিচারিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমূহের দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

শিশু আইনের ইতিহাস
শিশু আইনের ইতিহাস সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ ভারতে দ্য রিফরমেটরি স্কুল অ্যাক্ট, ১৮৯৭ সালে পরিবর্তন করা হয়। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত কারাদণ্ডের পরিবর্তে দোষী সাব্যস্ত কিশোর অপরাধীদের পৃথক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং কাঠামোগত পরিবেশ সংশোধন, সংস্কার ও পুনর্বাসন করা। পরবর্তীতে ১৯২২ সালে অবিভক্ত ভারতে কিশোর অপরাধীদের সংশোধনের পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতে দ্য বেঙ্গল চিলড্রেন অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে দ্য চিলড্রেন অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়। এর মধ্যে ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ প্রণয়ন করা হয়। ওই সনদে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সাক্ষর করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে জাতীয় শিশু নীতি ও ২০১৩ সালে শিশু আইন করা হয়। পরে ২০১৮ সালে আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়।
গত ৯ জুলাই সকালে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রকে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা হবে। শিশুদের পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রটিকে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হবে। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশুদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।