কোথাও হুইলচেয়ারে নিশ্চুপ বসে আছেন এক তরুণ, কোথাও বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন শ্রমজীবী এক বাবা, কোথাও গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হাত-পা নিয়ে অপারেশনের অপেক্ষায় কেউ। কারো একটি পা নেই, কারো হাত কেটে গেছে, কেউবা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন সামনে।
এ চিত্র রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের। এটিকে মানুষ চেনে পঙ্গু হাসপাতাল নামে।এ হাসপাতালে পা রাখলেই যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে দেশের সড়ক ও শ্রম নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর, কতটা নির্মম। সিঁড়ি থেকে বারান্দা, ওয়ার্ড থেকে করিডোর– প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে আছে ব্যথা আর যন্ত্রণার আলাদা আলাদা দৃশ্য।
ঈদ এলে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ছুটে মানুষ, সব ক্লান্তি ভুলে মনে উচ্ছ্বাস নিয়ে ব্যস্ত সড়কে হয় ঘরমুখো। গেল পবিত্র ঈদুল ফিতরেও ছিল এই চেনা আমেজ।তবে মানুষের ঘরে ফেরার সেই যাত্রা অনেকের জন্য শেষ পর্যন্ত আনন্দের ছিল না, পরিণত হয়েছে রক্তাক্ত দুঃস্বপ্নে। কেউ কেউ বাড়ি পৌঁছানোর আগেই ছিটকে পড়েন সড়কে। যার কারণে ঈদের নামাজ পড়ার পরিবর্তে পড়ে থাকতে হয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। কেউ কেউ এখনো হাসপাতালের বেডে শুয়ে জীবন আগের রূপে ফিরবে কি না সেই হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
তেমনই একজন ২৬ বছর বয়সী রাসেল শেখ। যাত্রাবাড়ী থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফিরছিলেন। পথে একটি বাসের ধাক্কায় তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। এখন পঙ্গু হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে দিন গুনছেন তিনি। পাশের বেডে থাকা গার্মেন্টসকর্মী রিনা আক্তার (৩২) ভবনের তিনতলা থেকে পড়ে মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তার চলৎশক্তি ফিরে পেতে দীর্ঘসময় লাগতে পারে। হয়ত আগের মতো আর কোনো দিন হাঁটাও হবে না।
পঙ্গু হাসপাতালে রোগীদের এমন চিত্র যেন এ ইঙ্গিত দেয়– এখানে বেড়ে শুয়ে থাকতে থাকতে ভেঙে যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে ১ হাজার ৬২৬ জন রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩২৭ জন অটোরিকশা দুর্ঘটনায় আহত, যা মোট আহতের ২০ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ হাসপাতালে আসা প্রতি ৫ জনের ১ জনই অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার। এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৭৮ জন, যা মোট আহতের প্রায় ১১ শতাংশ। গুরুতর অবস্থার কারণে মোট রোগীদের ৪১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, আহতদের বেশিরভাগেরই আঘাত হাত ও পায়ে। আর এ ধরনের আঘাতের অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন।
ঈদের ২০ দিন পরও থামেনি কান্না
ঈদের ২০ দিন পরও পঙ্গু হাসপাতালের ওয়ার্ড, করিডোর, সিঁড়িঘর– সব জায়গায় এক ধরনের চাপা আর্তনাদ। কারো হাত প্লাস্টারে মোড়া, কারো পায়ে রড বসানো, কেউ হুইল চেয়ারে, কেউবা মেঝেতে শুয়ে অপেক্ষা করছেন পরবর্তী অস্ত্রোপচারের জন্য।
একদিকে শিশুর কান্না, অন্যদিকে স্বজনদের অনুনয়– ‘একটু দেখে দেন ডাক্তার…’, ‘ব্যথা খুব বেশি…’, ‘অপারেশন লাগবে নাকি?’। ঈদের দিনে যেখানে থাকার কথা ছিল পরিবারের সঙ্গে, আত্মীয়ের বাড়িতে কিংবা উৎসবের আয়োজনে, সেখানে অনেকের এবারের ঈদের স্মৃতি হয়ে আছে এক্স-রে রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন, সেলাই আর প্লাস্টার।
ঈদ করতে যাচ্ছিলেন, এখন হাসপাতালের বেডে
৩২ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) হাসপাতালের একটি বেডে শুয়ে ছিলেন। তার ডান পায়ে প্লাস্টার, উরুর হাড়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। পাশেই বসে ছিলেন স্ত্রী আর মেঝেতে খেলছিল চার বছরের ছেলে। শিশুটি বারবার বাবার দিকে তাকাচ্ছিল কিন্তু কাছে গিয়ে ধরতে পারছে না, কারণ বাবার পুরো শরীরজুড়ে ব্যথা।
রফিকুল একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে গাজীপুর থেকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি।
তার স্ত্রী বলেন, ‘ঈদের আগের রাতে তিনি বলছিলেন, সকালে বাচ্চার জন্য গরুর মাংস রান্না করব। কিন্তু সকালে ফোন এলো– হাসপাতালে নিতে হয়েছে।’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পায়ে গুরুতর ফ্র্যাকচার হয়েছে। অন্তত তিন থেকে ছয় মাস বিশ্রাম ও ফলোআপ চিকিৎসা লাগবে। অর্থাৎ আপাতত তিনি কাজেও ফিরতে পারবেন না।
একজন চিকিৎসক বলেন, ‘এ ধরনের রোগীর সমস্যা শুধু অস্ত্রোপচারে শেষ হয় না। অনেকেরই দীর্ঘসময় ফিজিওথেরাপি লাগে। কর্মক্ষমতা হারালে পুরো পরিবারই আর্থিকভাবে বিপদে পড়ে।’
অটোতে মানুষের ঠাসাঠাসি
ঈদের ছুটিতে সবচেয়ে সহজলভ্য যান হয়ে ওঠে অটোরিকশা। বাস না পেলে, সিএনজি না মিললে কিংবা দূরত্ব কম হলে অটোতে চেপে বসেন বেশির ভাগ মানুষ। কিন্তু এই সহজলভ্য বাহনই হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার কারণ।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরে বেঞ্চে বসে ছিলেন মরিয়ম বেগম। কোলে আট বছরের মেয়ে। শিশুটির বাঁ হাত ব্যান্ডেজে মোড়া, মুখে আতঙ্কের ছাপ। ঈদের দ্বিতীয় দিন নানা বাড়ি যাওয়ার পথে অটোরিকশা উল্টে আহত হয় সে।
মরিয়ম বলেন, ‘অটোতে অনেক মানুষ ছিল। আমি কয়েকবার বলছিলাম আস্তে চালাতে কিন্তু চালক শোনেনি। একটা মোড়ে এসে এমনভাবে ঘোরালো, গাড়িটা কাত হয়ে উল্টে গেল। মেয়ের হাতটা তখনই বাঁকা হয়ে যায়।’
শিশুটির চিকিৎসক জানান, হাতে ফ্র্যাকচার হয়েছে। আপাতত প্লাস্টার করা হয়েছে, তবে নিয়মিত ফলোআপ লাগবে।
হাসপাতালের এক নার্স বলেন, ‘অনেক শিশু রোগী রাতে ঘুমাতে পারে না। গাড়িতে উঠতে ভয় পায়। আবার অনেকে কান্না থামায় না।’
সড়ক দুর্ঘটনা কেবল শারীরিক আঘাত নয়, বরং এটি একটি শিশুর নিরাপত্তাবোধ, সাহস ও মানসিক স্বস্তিও ভেঙে দেয়।
একটি দুর্ঘটনা, একটি পরিবারের ভেঙে পড়া ভবিষ্যৎ
পঙ্গু হাসপাতালের করিডোরে এমন অনেককে দেখা যায়, যাদের আঘাত শুধু শরীরে নয়, জীবিকার ওপরও। ১৮ বছর বয়সী রুহুল আমীন দিনাজপুর থেকে ঢাকায় এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে তার ডান পা ভেঙে যায়। ইতোমধ্যে একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার আরও চিকিৎসা বাকি।
তার মা বলেন, ‘আমার ছেলের জন্য যেমন শুধু মা-ই আছে, তেমনি আমারও বেঁচে থাকার জন্য শুধু ছেলে আছে। এখন ছেলের দেখাশোনা করতে গিয়ে কোনো কাজই করতে পারছি না।’
ঋণ, ওষুধ, যাতায়াত, হাসপাতাল– সবমিলিয়ে দুর্ঘটনার পর একটি নিম্নআয়ের পরিবারের জীবন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে পড়ে।
অটোরিকশায় কেন এত দুর্ঘটনা
হাসপাতালের তথ্য বলছে, এবারের ঈদে আহতদের বড় অংশ অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার। এই বাস্তবতা নতুন নয়। আগের ঈদগুলোতেও ছোট, অনিরাপদ ও অতিরিক্ত যাত্রীবাহী বাহনগুলোর দুর্ঘটনার তথ্য সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অটোরিকশা দুর্ঘটনা বাড়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে– অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ঝুঁকিপূর্ণ মোড় নেওয়া ও হঠাৎ ব্রেক, অভিজ্ঞতাহীন বা প্রশিক্ষণহীন চালক, বড় সড়কে ছোট যানবাহনের ওঠা, যানবাহনের ফিটনেস, ব্রেক ও ভারসাম্যহীনতা, যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন না থাকা। একটি অটোরিকশায় যেখানে তিন থেকে চারজন যাত্রী নিরাপদ, সেখানে ওঠেন ছয়-সাতজন, কখনো আটজন। সঙ্গে থাকে শিশুও। এর বাইরে ব্যাগ, বাজার, কখনো বাড়তি বোঝাও নেওয়া হয়। ফলে গর্ত, বাঁক কিংবা একটি ধাক্কাই হয়ে ওঠে বড় বিপর্যয়ের কারণ।
পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ১ হাজার ৬২৬ জন রোগী আমাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৭৮ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার ও ৩২৭ জন অটোরিকশা সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই হাত-পায়ে আঘাত ছিল। এসব আঘাতের অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, আমরা বারবার সতর্ক করি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালাতে, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে, ছোট যানবাহন যেন বড় সড়কে না ওঠে। কিন্তু বাস্তবে এসব সতর্কতা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না।
ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, অনেক যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলে। কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির ফিটনেস ঠিক থাকে না, ব্রেকও ঠিকমতো কাজ করে না। আবার অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সও থাকে না।
সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তিনি অসতর্কতা ও অতিরিক্ত গতি– এ দুটিকে চিহ্নিত করেন।
মোটরসাইকেলও বড় আতঙ্ক
যদিও হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় আহত রোগী এসেছেন, তবুও মোটরসাইকেল এখনো ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
চিকিৎসকরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেল অনেকের কাছে শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, দ্রুততা ও রোমাঞ্চের প্রতীক হয়ে ওঠে। একসঙ্গে তিন-চারজন ওঠা, হেলমেট না পরা, ফাঁকা রাস্তায় গতি বাড়ানো– এসব অভ্যাস মুহূর্তেই জীবনে নামিয়ে আনছে অকল্পনীয় দুর্ভোগ।
এর ফলে দেখা যাচ্ছে– একজন তরুণ, যে সকালে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়েছিল, সন্ধ্যায় সে ফিরছে স্ট্রেচারে। একটি পরিবার, যারা ভাবছিল ঈদে ছেলেটি বাড়ি আসবে, তারা রাত কাটাচ্ছে অপারেশন থিয়েটারের সামনে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান যা বলছে
ঈদের ছুটিতে পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১,৬২৬ জন। এর মধ্যে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় আহত ৩২৭ জন (২০.১ শতাংশ), মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ১৭৮ জন (প্রায় ১১ শতাংশ), ভর্তি রোগী ৪১৩ জন (২৫.৪ শতাংশ)।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৫ জন আহতের ১ জন অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার এবং প্রতি ৪ জন আহতের ১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন পুনর্বাসনও
সড়ক দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি ও অস্ত্রোপচার জরুরি, কিন্তু সেখানেই চিকিৎসা শেষ নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রোগীদের বড় অংশের জন্য প্রয়োজন হয়– অর্থোপেডিক ফলোআপ, ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন, মানসিক সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা। কারণ একজন শ্রমিকের পা ভাঙা মানে শুধু হাড় ভাঙা নয়, এর অর্থ কাজ বন্ধ, আয় বন্ধ, ঋণ বাড়া, সন্তানের খরচ অনিশ্চয়তায় পড়া, পরিবারের ভবিষ্যৎ ঝুলে যাওয়া।
সংকটাপন্ন চিকিৎসা কাঠামো
বর্তমানে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে হাজারেরও বেশি রোগীর চাপ পড়ছে। কিন্তু এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা রয়েছে। নার্স ও চিকিৎসকের তীব্র সংকটও রয়েছে। তাছাড়া নেই ট্রমা কেস পরিচালনার মতো প্রশিক্ষিত পর্যাপ্ত জনবল। ফিজিওথেরাপি সেবাও পর্যাপ্ত নয়, ফলে অনেক রোগী পুনর্বাসন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
যা করা জরুরি
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এখনই কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি– অটোরিকশার মহাসড়কে ওঠা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, ফিটনেসবিহীন যানবাহন জব্দ, লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ঈদকেন্দ্রিক বিশেষ ট্রাফিক নজরদারি এবং ছোট যানবাহনের জন্য নিরাপদ বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করা।