সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে ইরানের হামলা

সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে ইরানের হামলা

যুদ্ধবিরতি চুক্তির কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি আরবের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার (৮ এপ্রিল) একটি শিল্প সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র সচল পথটিতে এ হামলা চালানো হয়েছে।পাশাপাশি দেশটির অন্য স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে বিশাল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আটকে পড়ে এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়।এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান খনিগুলো থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠানোর জন্য এই পাইপলাইনটি ব্যবহার করছিল। এর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো হচ্ছিল।

সূত্র জানিয়েছে, এ হামলার ফলে পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা একে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট বলে অভিহিত করেছেন এবং এই হামলার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলের বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে ইয়ানবুতে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানিগুলোর তেল স্থাপনাও রয়েছে।

হামলাটি ঠিক কখন করা হয়েছিল বা এর ফলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। পাইপলাইনের কার্যক্রম এর ফলে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাও এখনো অনিশ্চিত।

সৌদি সরকারের যোগাযোগ দপ্তর ও পাইপলাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাঠানো ই-মেইলের জবাব দেয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তান মধ্যস্থতা করার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাত জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।

তবে চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোর ওপর হামলা থামেনি।

কুয়েতি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে দেশটির ওপর ইরানের হামলার তীব্রতা বেড়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ফলে তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানি শোধন কেন্দ্রগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরানি মিসাইল ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানের একটি হামলায় সিত্রা এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি আরামকো তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের সক্ষমতার মধ্যে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহার করে। বাকি প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল রপ্তানির জন্য রাখা হয়। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে ইয়ানবু বন্দর থেকে গড়ে দৈনিক ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো হয়েছে, যা এর সর্বোচ্চ সক্ষমতার কাছাকাছি।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর এই পাইপলাইনের কারণে সৌদি আরব তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে সৌদি আরবের তেল থেকে আয়ের পরিমাণ বেশি ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS