মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আরও তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি।
একই সঙ্গে ইপিআই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন ক্রয় ও চাঁদপুর-ভোলায় সেতু নির্মাণের একাধিক প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভায় ইয়ার এনার্জি এজি, কেএন্ডআর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি ও মেসার্স সিকদার ইন্টারন্যাশনাল থেকে এক লাখ টন করে মোট তিন লাখ টন বিভিন্ন মানসম্পন্ন ডিজেল কেনার তিনটি আলাদা প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
এছাড়া ইউনিসেফের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয় সভায়।
কিন্তু উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও খোলা বাজারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না বলে জানা যায়। এ কারণে ভেকসিনের গুণগত মান বজায় রাখাও সম্ভব হয় না।
এই পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন (ভিটামিন ‘এ’-৫০ ক্যাপসুল এবং কৃমিনাশক ট্যাবলেট) উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
জানা গেছে, এই ভ্যাকসিন ক্রয় বাবদ সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয় বা সংগ্রহ করা ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে এবং ক্রয়কৃত ভ্যাকসিনের ক্রয়মূল্য তুলনামূলকভাবে কম।
সভায় মেঘনা নীদর ওপর শরিয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে ৮ কি.মি. দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের প্রায় ৩০টি জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৪ লেন সেতু, উভয় পাশে ৮.৫৭ কি.মি. দীর্ঘ সংযোগ সড়ক এবং ৯.৬৩ কি.মি. দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে।
সভায়, ‘বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর এবং তেঁতুলিয়া নদীর উপর ভোলা সেতু’ প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশালসহ ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১০.৮৬৭ কি.মি. দীর্ঘ সেতু (৪-লেন) এবং ১৮.০৭৫ কি.মি. দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে। সম্ভাব্য সমীক্ষায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০৩৩ সালে এ সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪,৯৯৬টি যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৬২ সালে ৪১ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন চলাচল করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫০৭.৫ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটিজ স্থানান্তর বাবদ সকল ব্যয় সরকারের খাত হতে নির্বাহ করা হবে।