উদীয়মান শিল্প হিসেবে সিমেন্ট ক্লিংকার, স্লাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসাম এ পাঁচটি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রীম আয়কর (এআইটি) ২-৫ শতাংশ দিতে হচ্ছে। যা কমিয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ এবং বিক্রি পর্যায়ে ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করলে পরবর্তী বছরে জের টানার (কেরি ফরওয়ার্ড) সুযোগ কমে আসবে এবং উৎপাদনকারীরা উপকৃত হবেন।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো বাজেট প্রস্তাবে বিষয়টি তুলে ধরেন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের প্রস্তাবনায় বিসিএমএ প্রেসিডেন্ট কাস্টমস ডিউটি, অগ্রীম আয়কর, সম্পূরক শুল্ক, ইনভয়েস মূল্যের ওপর শুল্কায়ন, ভ্যাট নির্ণয়ে ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তন, রপ্তানির ওপর কর রেয়াত সহজীকরণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা সুপারিশ দিয়েছেন।
প্রস্তাবনায় সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি (সিডি) অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ১৫ শতাংশের পরিবর্তে প্রতি মেট্রিক টনে ৫০০ টাকা হওয়া যুক্তিযুক্ত বলা হয়েছে।
লাইমস্টোন (বাল্ক) আমদানিতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (এসডি) প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবের যৌক্তিকতায় বলা হয়েছে- সম্পূরক শুল্ক সাধারণত ধার্য করা হয় বিলাস দ্রব্যের ওপর। লাইমস্টোন শিল্পের কাঁচামাল তাই এটা যৌক্তিক নয়।
সিমেন্ট শিল্পের পাঁচটি কাঁচামালে প্রতি টনে ২০ দশমিক ৫০ ডলার থেকে ৫২ দশমিক ৫০ ডলারে শুল্কায়ন হচ্ছে। এর মধ্যে সিমেন্ট ক্লিংকারে প্রতি টনে ৫২ দশমিক ৫০ ডলার, স্লাগে ৩০ ডলার, লাইমস্টোনে ২০ দশমিক ৫০ ডলার, ফ্লাই অ্যাশে ৩০ ডলার এবং জিপসামে ৩৫ ডলার। যা ইনভয়েস মূল্য ধরে শুল্কায়ন করা যুক্তিযুক্ত বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ শিল্পের জন্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) নির্ধারণে ট্যারিফ পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব সিমেন্ট উৎপাদনকারীর কাছ থেকে একই হারে টন/বস্তা প্রতি ভ্যাট আদায় হলে এ সংক্রান্ত মতপার্থক্য দূর হবে এবং বর্তমানের চেয়ে সামগ্রিক ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ বাড়তে পারে।
২০১২ সালের মূল্য সংযোজন কর আইন অনুযায়ী ডিউটি ড্রব্যাক পদ্ধতি চালু হওয়ায় শুল্ক রেয়াত প্রক্রিয়া জটিল ও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এক্ষেত্রে রপ্তানির ওপর কর রেয়াত পদ্ধতি সহজীকরণ করার দাবি জানান।
সিমেন্ট শিল্পের খুচরা যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। যা ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, সিমেন্ট শিল্পে মূলধনী যন্ত্র আমদানির ওপর ১ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। এক্ষেত্রে মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক অযৌক্তিক বলে মনে করেন বিসিএমএ প্রেসিডেন্ট।
এ ছাড়া সিমেন্টের ৫টি কাঁচামালে আমদানি পর্যায়ে ইনভয়েস ভ্যালুর ওপর অগ্রীম কর (এটি) ১ শতাংশ করা হলে উৎপাদনকারীরা উপকৃত হবে। বর্তমানে সিমেন্ট ক্লিংকার, স্লাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসাম এ পাঁচটি কাঁচামাল আমদানিতে অ্যাসেসেবল ভ্যালুর ওপর ২ শতাংশ অগ্রীম কর দিতে হয়।
মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, দেশের আবাসন সমস্যা সমাধান, অবকাঠামো উন্নয়নসহ দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় সিমেন্ট শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশের রাজস্ব আদায় ও কর্মসংস্থানেও এ খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাজেটে প্রতিফলিত হলে উদীয়মান এ শিল্পখাত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারবে।