মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য একটি পরিকল্পনার খসড়া হাতে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যে সমঝোতা না হলে তেহরানে ‘নরক নেমে আসবে’ বলে হুমকি দেওয়ার পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালী খুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সোমবার প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, শান্তি পরিকল্পনাটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথমে ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, এরপর ১৫-২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করা।
সূত্রটি আরও জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পুরো রাতজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন।
রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী খুলবে না। প্রস্তাবটি পর্যালোচনার সময় ইরান কোনো সময়সীমা মেনে নেবে না বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটনের প্রস্তুতি নেই।
রোববার অ্যাক্সিওস প্রথম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা একটি সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছে, যা দুই ধাপের চুক্তির অংশ হিসেবে স্থায়ী সমাপ্তির দিকে যেতে পারে।
মঙ্গলবারের মধ্যে চুক্তি, ট্রাম্পের শর্ত
রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁমকি দেন, মঙ্গলবারের মধ্যে চুক্তি না হলে এবং প্রণালী না খুললে ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোয় নতুন করে হামলা চালানো হবে। পরে আরেক পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেন: মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)!
সোমবারও অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়ে অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, যেকোনো সমাধানেই হরমুজ প্রণালীতে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ কোনো চুক্তি ‘আরও বিপজ্জনক ও অস্থির মধ্যপ্রাচ্য’ তৈরি করবে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, রোববার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাইফায় একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে, সেখান থেকে উদ্ধারকারীরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে প্রায় ৩৫৪০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২৪৪ জন শিশু রয়েছে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননেও হামলা চালিয়েছে এবং বৈরুতেও আঘাত হেনেছে।লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে নিহতের সংখ্যা ১৪৬১ জন, যার মধ্যে অন্তত ১২৪ জন শিশু রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স