ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ইরানের অবকাঠামোর ওপর ‘পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে’ হামলা চালিয়ে যেতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানের আসালুইয়াহ অঞ্চলে অবস্থিত বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় জোরালো হামলা চালিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও আরেকটি স্থাপনায় হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ইসরায়েলের দাবি, এই দুই স্থাপনা মিলেই ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশের জন্য দায়ী। হামলার পর এগুলো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আসালুইয়াহর ওই স্থাপনাটি একাই দেশের প্রায় অর্ধেক পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন করত।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।সংস্থাটি জানিয়েছে, দুটি পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পেট্রোকেমিক্যাল হলো তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি রাসায়নিক পদার্থ, যা প্লাস্টিক, সার, সোলভেন্ট, রঙ, টেক্সটাইল ফাইবারসহ বিভিন্ন শিল্প ও দৈনন্দিন পণ্যে ব্যবহৃত হয়।

এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যায়।

গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (মঙ্গলবার রাত ৮টা) হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না করা হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। তবে পরবর্তীতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার খবর আসার পর দাম কিছুটা কমে যায়।

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মধ্যে ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই খবর প্রকাশের পর তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে থেকে নেমে প্রায় ১০৭ ডলারে স্থিত হয়, ফলে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS