এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপ শেষ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানি নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা ও আশ্রয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে।
এই সংকটে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানি খেলোয়াড়দের দেশে ফেরত না পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান নারী ফুটবল দলকে দেশে ফিরতে বাধ্য করে অস্ট্রেলিয়া একটি ভয়াবহ মানবিক ভুল করছে।সেখানে গেলে তাদের মেরে ফেলা হতে পারে। মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, এমনটা করবেন না, তাদের আশ্রয় দিন। আপনারা না দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গ্রহণ করবে।’
এদিকে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে যে, আসরের শেষ ম্যাচ খেলার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় ইরানি দলের অন্তত পাঁচজন সদস্য গোপনে হোটেল ত্যাগ করেছেন।বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে (সেফ হাউস) রয়েছেন।
সোমবার রাতে দলের নির্ধারিত ডিনারের সময় তাদের অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। গোল্ড কোস্ট থেকে বাকি দলের ইরানে ফেরার ঠিক আগমুহূর্তে পুলিশের সহায়তায় তারা এই পদক্ষেপ নেন।
এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জাতীয় সংগীত না গেয়ে মৌন প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ইরানি ফুটবলাররা।
এরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে কঠোর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়।
মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, বর্তমানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেয়ীসহ ১,৩৩২ জন নিহত হওয়ার পর দেশটির পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। এই অবস্থায় খেলোয়াড়রা দেশে ফিরলে তাদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হতে পারে।
ইরানি নারীদের সুরক্ষায় ‘Change.org’-এ একটি পিটিশনে ইতিমধ্যে ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং খেলোয়াড়দের প্রতি সংহতি জানালেও দেশটির সরকার এখনো আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।এরই মধ্যে ফিফা, এএফসি এবং অস্ট্রেলীয় সরকারের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।