শেষ দুই ম্যাচ মিরাজের কাছে ছিল ‘নকআউট’

শেষ দুই ম্যাচ মিরাজের কাছে ছিল ‘নকআউট’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হেরে সিরিজ হারের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দারুন পারফরম্যান্স করে চট্টগ্রামে পা রাখে বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার ম্যাচটি হয়ে উঠে অলিখিত ফাইনালে। এই ম্যাচে শান্ত-লিটন-মোস্তাফিজদের দারুন পারফরম্যান্সে ১৩ বছর পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতে খড়া কাটালো বাংলাদেশ।সিরিজ জেতার পথে শেষ দুই ম্যাচকে মিরাজ নকআউট হিসেবে বিবেচনা করে ম্যাচ খেলেছেন।

নিউজিল্যান্ডকে বৃহস্পতিবার হারিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে মিরাজ জানালেন, ‘প্রথম ম্যাচ হারার পর আমি অধিনায়ক হিসেবে বিষয়টা একটু ভিন্নভাবে ভেবেছি।অনেক সময় নকআউট ধরনের ম্যাচ থাকে—হারলেই বাদ। আমি মানসিকভাবে ঠিক সেভাবেই নিয়েছিলাম।যেহেতু প্রথম ম্যাচটা হেরে গিয়েছি, দ্বিতীয় ম্যাচেও হারলে সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে। ভেবেছি, দ্বিতীয় ম্যাচটা জিততে পারলে সামনে আরেকটা সুযোগ তৈরি হবে। আমি ঠিক এইভাবেই চিন্তা করেছি।’

দলীয় পারফরম্যান্সের আলোকেই সফল হয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে শান্তর সেঞ্চুরির পর লিটনের লম্বা সময় পর হাফ সেঞ্চুরি। বোলিংয়ে মোস্তাফিজের ফাইফার। সব মিলিয়েই বৃহস্পতিবার ৫৫ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

দারুণ এই জয়ে মিরাজ শান্ত ও মোস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, ‘শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছে, আমরা ওর কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্সই আশা করি। সে দারুণ একটি ইনিংস খেলেছে। লিটন দাসও খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। আর মোস্তাফিজসহ দলে যারা আছে, প্রায় সবাই অভিজ্ঞ—অনেক দিন ধরে বাংলাদেশের হয়ে খেলছে। আমার মনে হয়, এখনই সেই সময় এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটা দেখানোর। দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের ফলাফল।’

বৃহস্পতিবার ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বারের মতো পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। এই কীর্তিতে বাঁহাতি পেসারদের তালিকায় তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ওয়াসিম আকরাম ও ট্রেন্ট বোল্টকে। মোস্তাফিজকে আলাদা করে প্রশংসায় ভাসালেন অধিনায়ক মিরাজ, ‘অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। আজকে যেভাবে বোলিং করেছে, আমরা সবসময় আশা করি মোস্তাফিজ এরকমই বোলিং করবে।’

বৃহস্পতিবার প্রচণ্ড গরমে ব্যাটিং করতে গিয়ে কয়েকবার ক্র্যাম্পেও ভুগেছেন শান্ত। তবু থামেননি। পুরো ইনিংসে ৪২টি সিঙ্গেল ও ৫টি ডাবল নেন তিনি। বাউন্ডারি থেকে আসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। প্রায় ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা, সঙ্গে উচ্চ আর্দ্রতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল বেশ কঠিন। এদিন জেডেন লেনক্সের করা ৪১তম ওভারের শেষ বলে লং-অনে সিঙ্গেল নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ১১৪ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। ১৭৭ মিনিটে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ১৮৬ মিনিটে ১০৫ রানে আউট হন শান্ত।

শান্তর ইনিংস নিয়েও আলাদা করে কথা বলেছেন মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয় শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সেটা পুরো ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দিয়েছে। লিটন দাসও দারুণভাবে ব্যাটিং করেছে। ৩১ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর এই কন্ডিশনে ওদের জন্য কাজটা সহজ ছিল না, কারণ ওরা খুব ভালো জায়গায় বল করেছে। ওরা দুজন যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে, সেটা সত্যিই অসাধারণ। এতে পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়, আমরা সবাই বিশ্বাস করেছি যেকোনো লক্ষ্যই তাড়া করা সম্ভব।’

মেহেদী হাসানর মিরাজের নেতৃত্বে টানা তিনটি সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এরপর পাকিস্তান; আজকে নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা তিনটি সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। টানা তিন জয়ের পর সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার মিশনে কিছুটা এগিয়ে গেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। পারফরম্যান্সের দিক থেকে শতভাগ সফল না হলেও অধিনায়ক হিসেবে দারুণ সফল মিরাজ।  

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘দেখেন, অবশ্যই বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলাটাও খুব জরুরি। কারণ ভালো ক্রিকেট না খেললে ওই লক্ষ্যটা অর্জন করা সম্ভব না। রেজাল্ট আসে প্রসেস থেকে, আর প্রসেসটা হলো ভালো পারফরম্যান্স করা। আমরা যদি ম্যাচ বাই ম্যাচ ভালো খেলতে পারি, জিততে পারি এবং সবাই আত্মবিশ্বাসী থাকে, তাহলে ওই লক্ষ্যটা অর্জন করা সম্ভব। টপ নাইন প্রসঙ্গে বললে, আমরা যদি কনসিস্টেন্ট পারফর্ম করি, তাহলে শুধু টপ নাইন নয়, আরও ভালো জায়গায় যাওয়াও সম্ভব।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS