রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় বাড়ির মালিকরা বলছেন, অন্য এলাকায় গেলে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন।এমনকি এ পরিচয় শুনলে অনেকেই ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকায়। এ ধরনের নেতিবাচক ভাবমূর্তি দূর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে মোহাম্মদপুরে ‘বসিলা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন ও ‘ওপেন হাউজ ডে’তে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতারা এসব কথা বলেন।
৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মাসুম খান রাজেশ বলেন, রায়েরবাজার, বেড়িবাঁধ ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এসব এলাকায় অপরাধীরা আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম অপু বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভুল তথ্যের কারণে নির্দোষ ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ খান অভিযোগ করেন, অটোরিকশা গ্যারেজ ও ভাঙারি দোকানগুলো কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাস্থল এবং চুরি হওয়া মালামাল বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব স্থানে অভিযান জোরদারের দাবি জানান তিনি।
বসিলা বড় মসজিদের খতিব আবু তাহের বলেন, রাতে অটোরিকশা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ ছিনতাই বেড়েছে। কিছু চালক দিনে স্বাভাবিক থাকলেও রাতে অপরাধে জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তারা আরও বলেন, বেড়িবাঁধ এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকা কিছু দোকান অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব দোকান রাত ১২টার মধ্যে বন্ধ করার দাবি তোলা হয়।
মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এনায়েতুল হাফিজ অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ানোর বিষয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি মহল্লায় সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া অতীতে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
থানা বিএনপির আহ্বায়ক শুক্কুর মাহমুদ কোম্পানি বলেন, কিশোর গ্যাং ও ভূমিদখলের পেছনে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।