সিলেটে ভারতীয় পণ্য-বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার

সিলেটে ভারতীয় পণ্য-বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অপর এক অভিযানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় রাখা বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার উদ্ধার করা হয়েছে বিজিবি ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে। 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গ্যাস ফিল্ড আর্মি ক্যাম্প–২৭ বীর ইউনিটের একটি দল চেকপোস্টে ডিউটিরত অবস্থায় সন্দেহভাজন দুটি যাত্রীবাহী হাইয়েস গাড়িতে তল্লাশি চালায়।এ সময় (ঢাকা মেট্রো-চ ১৫০৩৪৭) ও (ঢাকা মেট্রো-চ ২০৫৩৩৫) নম্বর গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৬৫৫ কেজি জিরা, চারটি কম্বল এবং ৪৮ প্যাকেট মেহেদী। এসব পণ্যের আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৭৬০ টাকা বলে জানা গেছে।

আটককৃতরা হলেন, দুই হাইয়েস গাড়িচালক রফিকুল ইসলাম ও লিটন ইসলাম।তাদের উভয়ের বাড়ি ঢাকার ধামরাই এলাকায়।

সেনাক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, আটককৃত পণ্য, গাড়ি ও চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর টহল ও তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে জেলার কানাইঘাট সীমান্তে পরিত্যাক্ত পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১৪টি বিস্ফোরক পাওয়ার জেল ও ১৪টি ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করেছে বিজিবি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (১৯ বিজিবি) ও র‌্যাব-৯ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে যৌথ অভিযানে উপজেলার সীমান্তবর্তী ধর্মপুর এলাকায় মেইন সীমান্ত পিলার ১৩১৪ থেকে প্রায় ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে বিস্ফোরক পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করে।

১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জুবায়ের আনোয়ার পিএসসি বলেন, উদ্ধারকৃত ইলেকট্রিক ডেটনেটর ব্যবহার করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি করা সম্ভব, যা দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে ব্যবহৃত হতে পারত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব বিস্ফোরক চোরাচালানের মাধ্যমে নাশকতার উদ্দেশ্যে দেশে আনা হচ্ছিল। 

বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় নিবিড় গোয়েন্দা তৎপরতা, সতর্ক অবস্থান এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS