News Headline :
‘চঞ্চলা হাওয়ারে’র সেই নায়িকা অলিভিয়া এখন কোথায় ভিটামিন ‘সি’ ভরপুর কিছু অপ্রচলিত খাবার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ছোলা-মুড়ি দিয়ে ইফতার করলেন ওজিল নিয়ম রক্ষার ম্যাচে কানাডাকে ৮২ রানে হারাল আফগানিস্তান বিশ্বকাপে ভরাডুবি: ক্রিকেটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে অজি বোর্ড আফগানিস্তানে নতুন আইন— স্ত্রীকে মারধরে জখম হলেই স্বামীর শাস্তি সিদ্ধান্ত ছাড়াই থেমে গেল রাশিয়া–ইউক্রেন শান্তি আলোচনা আরও নাজুক ও দুর্বল ঋণ পরিস্থিতি পাবে বর্তমান সরকার: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এতিম শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের ইফতার পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া
আরও নাজুক ও দুর্বল ঋণ পরিস্থিতি পাবে বর্তমান সরকার: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আরও নাজুক ও দুর্বল ঋণ পরিস্থিতি পাবে বর্তমান সরকার: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বিগত সময়ের চেয়ে আরও নাজুক ও দুর্বল ঋণ পরিস্থিতি বর্তমান সরকার পেতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ঋণ ও দায়–দেনা পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিলো, তা আরেকটু খারাপ অবস্থায় রেখে গেছে। এটিই হলো সত্য।এটা হতে পারে রাজস্ব আদায়ের অভাব কিংবা চলতি ব্যয়কে সংকোচন না করতে পারা অথবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সামঞ্জস্য বিধান না করার কারণে। কিন্তু বাস্তবতা হলো–অন্তর্বর্তী সরকার যে ঋণ পরিস্থিতি যে অবস্থায় পেয়েছিলো, তার চেয়ে আরও দুর্বল ও নাজুক বিএনপি সরকার পাবে।

অনুষ্ঠানে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশের সঙ্গে যেসব জানা-অজানা চুক্তি করেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 

ট্রানজিশন টিমের কাজ প্রসঙ্গে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক বলেন, ডকুমেন্টসে দায়-দেনা পরিস্থিতি, বিগত সরকার যে সমস্ত ক্রয় চুক্তি করে গেছে সেগুলোকে আরও ভালো করে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত।যে এ চুক্তিতে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কী না কোনো নিয়ম-নীতির। বিগত সরকার যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করেছে। সে সমস্ত বৈদেশিক চুক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়নি, শুধু আমাদের বন্দর দিয়ে দেওয়ার জন্য হয়নি। আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়েছে যেগুলো হয়তো আমরা অবহিত না।

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, এ সমস্ত বৈদেশিক চুক্তিকেও আবার পুনরায় বিবেচনা করা উচিত, যাতে নতুন সরকারের কাছে এর কী ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায়; যেহেতু এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে পুনঃমূল্যায়ন করতে রাজি আছেন। তাহলে সেগুলো পুনরায় বিবেচনার ভেতরে নিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি। ট্র্যানজিশন দল যদি এই ময়নাতদন্তগুলো করে যেতে পারে, তাহলে অন্য অনেক কাজ সরকার করে যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, কিছুটা দম নিতে হবে সরকারকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি স্প্রিন্ট করবে, নাকি ম্যারাথনে দৌড়াবে? ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আগে ধৈর্য ধরতে হবে।এ অর্থবছরে কিছু করা ঠিক হবে না। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ব্যর্থতা, তারা তাদের অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো কৌশলপত্র দেখাতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনামন্ত্রী একটি প্রতিবেদন তৈরির কথা বলে বিদায় নিয়েছেন।

এ মুহূর্তে জনতুষ্টিবাদী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই–বলে মন্তব্য করেন এ অর্থনীতিবিদ। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনি কৃচ্ছতা না করেন, সংযম দেখাতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছতা না দেখান, সংযম না দেখান–তাহলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য অসুবিধাগুলো খুবই পরিষ্কারভাবে ভাগ হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। আরও বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, এ সরকারের প্রথম পরীক্ষা হবে যে, তারা কতখানি বাস্তবসম্মতভাবে বাজেট সংশোধন করতে পারে। একইসঙ্গে আগামী বছরের বাজেট তৈরির কাঠামোটা একটা শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি অনেকগুলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের দিকে এগোনো উচিত। একবারে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ আর্থিক সক্ষমতা বড় একটা চ্যালেঞ্জ হবে এ সরকারের জন্য।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS