News Headline :
‘চঞ্চলা হাওয়ারে’র সেই নায়িকা অলিভিয়া এখন কোথায় ভিটামিন ‘সি’ ভরপুর কিছু অপ্রচলিত খাবার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ছোলা-মুড়ি দিয়ে ইফতার করলেন ওজিল নিয়ম রক্ষার ম্যাচে কানাডাকে ৮২ রানে হারাল আফগানিস্তান বিশ্বকাপে ভরাডুবি: ক্রিকেটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে অজি বোর্ড আফগানিস্তানে নতুন আইন— স্ত্রীকে মারধরে জখম হলেই স্বামীর শাস্তি সিদ্ধান্ত ছাড়াই থেমে গেল রাশিয়া–ইউক্রেন শান্তি আলোচনা আরও নাজুক ও দুর্বল ঋণ পরিস্থিতি পাবে বর্তমান সরকার: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এতিম শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের ইফতার পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া
পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া

পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া

‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না’ সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের করা এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরিবহনমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী। ওই স্ট্যাটাসে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেন। 

জারা তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘‘সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।ওনার এই বক্তব্য নিয়ে আমার কিছু মন্তব্য ও প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রী যেটিকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি। কোনো চালক যখন নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে যান, তখন তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়। একে সমঝোতার মোড়ক দেওয়া মানে হলো একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া।এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সড়কের এই অলিখিত চাঁদা। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে এভাবে টাকা আদায়ের ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করেন সাধারণ যাত্রী ও ভোক্তাই।

মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে।’ তাহলে কি আমরা ধরে নেব, এই অর্থ আদায় প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তাহলে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধ করুন। যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলে অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা হোক। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র সাথে যুক্ত করে এই অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে।

সড়কে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করুন। প্রকাশ করুন এই অর্থ আসলে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে? সাধারণ চালক-শ্রমিকের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পকেটে? এই অর্থ শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। এটি চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ নয়। এটি যাত্রী ও ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যায়। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের হতাশ করবেন না।’’

এর আগে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS