ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম। তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করেন।
মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট। এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির শাহাদাত হোসেন সেলিম।তিনি পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট। শাহাদাত হোসেন সেলিম নিজ দল বিএলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। ২৭ হাজার ৫৪৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মাহবুব।
নির্বাচনে নিজ পরিবারের পূর্ণ সমর্থন পাননি মাহবুব।তার বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ছেলে এনসিপির প্রার্থী হলেও তিনি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট করেন।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে তিনি বলেন, রাজনীতি আদর্শ ও অবস্থানের বিষয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
তবে বাবা হিসেবে ছেলের জন্য দোয়া করেছেন।
মাহফুজ আলম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে মাহবুব এনসিপির দায়িত্ব পান। সে সময় দলীয় কর্মসূচিতে প্রচার করা হয়, মাহফুজ উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে নির্বাচন করবেন। পরে মাহফুজ উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করলেও নির্বাচন করেননি। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও জমা দেওয়া হয়নি।একই সময়ে এনসিপি থেকে প্রার্থী হন মাহবুব আলম।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আমীর নাজমুল হাসান পাটোয়ারী। তবে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতসহ ১১টি দলের জোট হওয়ায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরে জামায়াতে ইসলামী শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবকে সমর্থন দেয়। জোটের সমর্থন পেলেও বাবার সমর্থন পাননি মাহবুব। তার ভাই মাহফুজও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেননি।
এ বিষয়ে মাহবুব আলমের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। যারা ভোট দিতে পারেননি তাদের ভিন্নমতের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনটি রামগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ৩০২ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬২টি। বৈধ ভোট ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭০।
হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের মো. জাকির হোসেন পাটওয়ারী পেয়েছেন ১১ হাজার ১৫৬ ভোট। লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির (জাপা) মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান মাহমুদ পেয়েছেন ৪১৪ ভোট। মই প্রতীকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ২০৩ ভোট। সিংহ প্রতীকে এনডিএমের মো. আলমগীর হোসাইন পেয়েছেন ১০৬ ভোট। ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের মো. কাউছার আলম পেয়েছেন ১১৫ ভোট।