ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো তৎপরতা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না বলে উল্লেখ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) প্রধান সমন্বয়কারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ যুগপৎ আন্দোলনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জোনায়েদ সাকি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আমেনা প্লাজার তৃতীয় তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ খালেক পিএসসি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মূসা এবং বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের জনগণের উদ্দেশ্যে তার পরিকল্পনা ও অঙ্গীকারের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
একইসাথে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ ধারায় আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ যুগপৎ জোট জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছি। কেননা নির্বাচন এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল এই সংগ্রামের। এবং অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য শাসনতান্ত্রিক আইনগত সংস্কার করে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো এনে একটা নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা, সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে আমরা সবসময় বলে এসেছি।কেননা আমরা চাই মানুষের ভোটের উপরে আস্থা আসুক, ভোট ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আসুক এবং এটার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যে প্রাথমিক ভিত্তি সেটা সুসংগঠিত হোক এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে অগ্রযাত্রা সেটা এগিয়ে যাক।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে এসে আমরা দেখছি যে, অনেক পুরনো যে প্রথা পদ্ধতি কৌশল সেগুলো অবলম্বন করছেন। যার মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটের চাইতে নানা ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপরে কোনো কোনো দলের আস্থা বেশি। বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের এই ধরনের পরিকল্পনা আজকে দেশব্যাপী স্পষ্ট হয়ে গেছে।
এমনকি আমরা এই বাঞ্ছারামপুরেও তার নানা রকম লক্ষণ দেখছি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে সারা দেশের ক্ষেত্রে যেটা দেখছি যে, নানাভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত ভোটারদের ভোট দিয়ে দেওয়া, কালি যে কালি মোছার জন্য মেডিসিন নিয়ে আসা, অমোচনীয় কালি সেগুলো দিয়ে আবার একই ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ানো, নানাভাবে ইলেকশন ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করা এবং সেগুলো দিয়ে নানাভাবে একটা প্রচারের কাজ করে নির্বাচনে যাতে সাধারণ মানুষের ভোটের যে জায়গা ভোটারদের যে উৎসাহ ভোটারদের যে অংশগ্রহণ সেটাকে বাধাগ্রস্ত করা; এই ধরনের নানা রকম লক্ষ্য তারা নিয়ে আজকে কাজ করছেন। সেইসাথে তিনি তার আসনে অন্তত ৪ জন প্রিজাইডিং অফিসারদের রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ততা নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন।
গগণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আরও বলেন, আমরা পরিষ্কার করে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আগেও আহ্বান জানিয়েছি, এখনো আহ্বান জানাই যে—ভোট ব্যবস্থা বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে।কাজেই এই জনগণের ভোটের ওপর সকলকে ভরসা করতে হবে। এভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো তৎপরতা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।