প্রাচীনকাল থেকেই রোগ নিরাময়ে কার্যকর ফল হিসেবে আনারসের ব্যবহার চলে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে খালি পেটে আনারস খেলে শরীরের জন্য নানাভাবে উপকার হতে পারে। আনারসে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম ব্রমেলেইন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একাধিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত আনারস খেলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
প্রদাহের সঙ্গে লড়াই করে
আনারসে থাকা ব্রমেলেইন একটি শক্তিশালী প্রদাহরোধী উপাদান। এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। নিয়মিত আনারস গ্রহণ করলে আরথ্রাইটিসের ব্যথা কমতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
লিভার ও অন্ত্রের উপকারে আসে
ব্রমেলেইন অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক গুণসম্পন্ন।ফলে আনারস নিয়মিত খেলে লিভার ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।
ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে
আনারসে থাকা পটাশিয়াম শরীরকে শক্তিশালী রাখে এবং শরীরের ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে, যা হৃদযন্ত্র ও পেশির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দাঁত ও মুখের যত্নে কার্যকর
গবেষণায় দেখা গেছে, আনারসের ব্রমেলেইন দাঁত ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে।
দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে
আনারসে থাকা বেটা ক্যারোটিন চোখের জন্য উপকারী।
নিয়মিত আনারস খেলে বয়সজনিত চোখের সমস্যা কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ক্যানসার প্রতিরোধেও ভূমিকা
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ব্রমেলেইন বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
যেভাবে তৈরি করবেন আনারস জুস
আনারস জুস তৈরি করা খুবই সহজ। প্রথমে আনারসের খোসা ফেলে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। এরপর একটি গ্লাস পানিতে কয়েক টুকরো আনারস দিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আনারস পানি ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিয়মিত এই পানীয় গ্রহণের আগে শরীরের অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।