বিশ্বকাপ থেকে ইরান সরে দাঁড়ালে কাকে বেছে নেবে ফিফা—ইরাক নাকি আমিরাত?

বিশ্বকাপ থেকে ইরান সরে দাঁড়ালে কাকে বেছে নেবে ফিফা—ইরাক নাকি আমিরাত?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। গত শনিবার থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে ওই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। 

আজ সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইরানে অন্তত ৭৮০ জন এবং ইসরায়েলে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোতেও ইরানের হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংঘাতের সরাসরি প্রভাব এখন আছড়ে পড়ছে ক্রীড়াবিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের ওপর।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ সরাসরি জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, এই হামলার পর তারা স্বাভাবিকভাবে বিশ্বকাপের কথা ভাবার মতো অবস্থায় নেই।যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ইরানের উচ্চপদস্থ ক্রীড়া কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং যেকোনো সময় নাম প্রত্যাহারের মতো বড় ঘোষণা আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে ইরানি ফুটবলার এবং ভক্তদের জন্য পথটি আগে থেকেই কণ্টকাকীর্ণ ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সাধারণ নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। এমনকি গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ফেডারেশন সভাপতি মেহেদী তাজসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি মার্কিন সরকার।

এই বৈষম্যমূলক আচরণকে ইরান আগে থেকেই ‘বর্ণবাদী’ এবং ‘শত্রুতামূলক’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে।

ইরান না খেললে বিকল্প কারা?

বিশ্বকাপের মূল ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোনো দলের নাম প্রত্যাহার আধুনিক ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীন। এর আগে ১৯৫০ সালে ফ্রান্স ও ভারত সরে দাঁড়িয়েছিল। যদি ইরান শেষ পর্যন্ত নাম প্রত্যাহার করে, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সেই জায়গায় অন্য কোনো দলকে সুযোগ দেওয়া হবে:

ইরাক: বর্তমানে প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে ইরাক। যদি তারা আসন্ন আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে হেরে যায়, তবে ইরানের শূন্যস্থান পূরণে ফিফার প্রথম লক্ষ্য হতে পারে তারা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত: যদি ইরাক প্লে-অফ জিতে এমনিতেই কোয়ালিফাই করে ফেলে, তবে এশিয়ান কোটায় পরবর্তী সেরা দল হিসেবে আমিরাত এই সুযোগ পেতে পারে।

ফিফার ক্ষমতা: ফিফার বিধানে নির্দিষ্ট করে বলা নেই যে কোন দলকে নিতে হবে, তবে তারা মহাদেশীয় ভারসাম্য রক্ষা করতে এশিয়া থেকেই বিকল্প দল বেছে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে ইরান গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে। তাদের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে (লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটল)। সেখানে বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার কথা তাদের। বর্তমানে বিশ্বে ২০তম এবং এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই দলটি টানা তিনবারসহ মোট সাতবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে, যদিও কখনোই তারা গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারেনি।

এদিকে ফিফা মহাসচিব ম্যাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম জানিয়েছেন যে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। ফিফা চায় সব দেশের অংশগ্রহণে একটি নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে, কিন্তু যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মুখে ইরানের উপস্থিতি এখন কেবল সময়ের ওপর নির্ভর করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS