প্রমাণ ছাড়াই ইরানে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ যুদ্ধ চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রমাণ ছাড়াই ইরানে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ যুদ্ধ চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান জোরদার হলেও এই যুদ্ধের সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো জোরালো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তেহরানের পক্ষ থেকে ‘আসন্ন হামলা’ ঠেকানো এবং পরমাণু কর্মসূচির ‘দীর্ঘমেয়াদী হুমকি’; এই দুই অজুহাতের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য।

সোমবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পরমাণু কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি হুমকি। তিনি বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরান বর্তমানে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা হারিয়েছে, যা তারা অর্জনের খুব কাছাকাছি ছিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই যুদ্ধকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি একে ইরাক যুদ্ধের মতো দীর্ঘস্থায়ী ‘নেশন বিল্ডিং’ বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই নয়, বরং একটি ‘সুনির্দিষ্ট ও ধ্বংসাত্মক মিশন’ হিসেবে আখ্যা দেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইসরায়েল ইরানে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে ইরান মার্কিন সম্পদে পাল্টা আঘাত করতে পারতো। সেই সম্ভাব্য পাল্টা আঘাত ঠেকাতেই এই ‘প্রি-এম্পটিভ’ বা আগাম হামলা চালানো হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এসব দাবি নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই প্রশ্ন উঠেছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলছেন, ইরান যে আমেরিকার ওপর হামলা করতে যাচ্ছে; এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা প্রমাণ তাদের দেওয়া হয়নি।

আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিম্বল আল জাজিরাকে জানান, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা বর্তমানে মার্কিন মূল ভূখণ্ডের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি নয়। তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো গত বছরের মার্কিন হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমনকি তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থারই মূল্যায়ন রয়েছে।

আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন। জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মার্কিনিদের খুব একটা স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নেই। ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন এবং মার্ক ওয়ার্নার জানিয়েছেন, ক্লাসিফাইড ব্রিফিংয়েও তারা এমন কোনো প্রমাণ পাননি যা এই যুদ্ধের ন্যায্যতা প্রমাণ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্টের’ সুযোগ নিয়ে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে অপারেশন শেষ করতে চাইছে, যাতে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন না পড়ে।তবে যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি বাড়তে থাকলে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ‘যুদ্ধবিরোধী’ ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

প্লাউশেয়ারসের প্রেসিডেন্ট এমা বেলচার বলেন, প্রমাণ উপস্থাপন না করার অর্থ হলো তারা মনে করে কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না। অথবা তাদের কাছে আসলে দেওয়ার মতো কোনো প্রমাণই নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS