ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন না ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেকজান্দার সেফেরিন। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফিফার সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ জানাতেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইনাল বয়কট করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর অন্যতম কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলাইরিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানোর পর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানায় উয়েফা।সংস্থাটি একে ‘অভূতপূর্ব, দুর্বোধ্য ও অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করে এবং দাবি করে, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ফিফা ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে।
এ ছাড়া সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনাও দুই সংস্থার মধ্যে বিরোধ বাড়িয়েছে।ফিফা বিষয়টি সমাধান করতে না পারলেও উয়েফা পরবর্তী সুপার কাপের ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব আরতানের হাতে তুলে দেয়।
বিশ্বকাপ চলাকালে ইরান দলকে অন্য দেশগুলোর মতো সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারার অভিযোগও ওঠে ফিফার বিরুদ্ধে। ইরানের কোচ আমির ঘালেনোয়ি তার দলকে টুর্নামেন্টের ‘সবচেয়ে নিপীড়িত’ দল বলে মন্তব্য করেছিলেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন ইরানের বিদায়ের পর প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন।
ফিফার চালু করা কয়েকটি নতুন নিয়মও এখনো গ্রহণ করেনি উয়েফা। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত হাইড্রেশন বিরতি, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হলে তা সংশোধনের বিশেষ ভিএআর প্রটোকল এবং মাঠে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখলে কার্ড দেখানোর নিয়ম।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ৪৮ দলের আসর নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন সেফেরিন। তার ভাষায়, এত বড় টুর্নামেন্টে অনেক ম্যাচই দর্শকদের কাছে আকর্ষণহীন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়েও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন উয়েফা সভাপতি। সংস্থাটি ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে তারা ‘ফ্যান ফার্স্ট’ নীতি বজায় রাখবে। টিকিটের ৪০ শতাংশের দাম ৩০ বা ৬০ পাউন্ডের নিচে রাখা হবে এবং ডায়নামিক প্রাইসিংও চালু করা হবে না।
উল্লেখ্য, সেফেরিন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে মেক্সিকো সিটিতে উপস্থিত ছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের ফাইনালে তার অনুপস্থিতি ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।