গাজীপুরে চীনা চাষির কৃষিক্ষেতে এক থেকে প্রায় দেড় ফুট লম্বা মরিচের ফলন হয়েছে। চাইনিজ জাতের এ মরিচের নাম ‘চাপাই-কোপাই’।ব্যতিক্রমী এ মরিচ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই মানুষ ছুটে যাচ্ছে ওই কৃষি ক্ষেতে।
‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ চাষ করে অনেকটাই সফল হয়েছে চীনা নাগরিক ‘ছেন জিয়েন গাও’।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা হায়েতখার চালা এলাকায় আতিক প্রধানের প্রায় ৩ বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে তিনি এ জাতের মরিচ চাষ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ মাস আগে ৩ বিঘা জমি এক বছরের জন্য ৭০ হাজার টাকা ভাড়ায় নেন ছেন জিয়েন গাও।পরে চীন থেকে চাপাই-কোপাই মরিচের বীজ বাংলাদেশে নিয়ে আসেন তিনি। তিন মাস আগে সেই বীজ বপন করে চারা করেন।পরে ‘চাপাই-কোপাই’ মরিচ চারা জমিতে চাষ করেন। অনেক পরিশ্রমের পর সেই গাছে মরিচের ফলন হয়েছে। এখন প্রতিটি গাছে প্রায় এক কেজি পরিমাণের মরিচ ধরেছে।
এ জাতের মরিচের জন্য আবহাওয়া এবং পরিবেশ উপযোগী থাকলে প্রতিটি গাছে দুই থেকে তিন কেজি মরিচের ফলন হওয়ার কথা। এরপরও প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় মরিচ ঝুলছে। প্রথম বছরেই এ জাতের মরিচ চাষ করে তিনি অনেকটা সফলতা পেয়েছেন। তবে এদেশের পরিবেশের কারণে অনেক মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। তিন মাসের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়েছে এ মরিচ। এখন চীনা নাগরিক ‘চাপাই কোপাই’ মরিচ ক্ষেত থেকে তুলে ঢাকার গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় সুপার শপে ৮০০-১২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। এছাড়া পাইকারি বিক্রি করছেন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।
জমির মালিক আতিক প্রধান বলেন, চীনা নাগরিক আমার জমি ভাড়া নিয়ে চীন থেকে বীজ এনে মরিচ চাষ করেন। তবে এ মরিচের জন্য আমাদের দেশের পরিবেশ উপযোগী না হওয়ায় ফলন অর্ধেকেরও কম হয়েছে। অনেক গাছ মারা গেছে। এসব মরিচ তিনি ঢাকার বিভিন্ন সুপার শপে বিক্রি করছেন। চীনা জাতের এ মরিচ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন এখানে লোকজন আসছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এখানে পরিদর্শন করে গেছেন।
গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমার জানামতে এ মরিচের চাষ এই প্রথম দেশে ওই চীনা নাগরিক করেছেন। চীনা জাতের এ মরিচ এক থেকে দেড় ফুট লম্বা।
তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই দেখবো কীভাবে এ জাতের মরিচ সম্প্রসারণ করা যায়। এ জাতের মরিচের দাম অনেক বেশি। যাতে আমাদের দেশের কৃষকরা চাষ করে লাভবান হতে পারে সে বিষয়ে আমরা ভাববো।