নেইমারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে অবশেষে জয়খরা কাটিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার নেতৃত্বে রেমোকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক মাসের জয়ের অপেক্ষার অবসান ঘটে দলটির।
পুরো ম্যাচজুড়ে খেলায় প্রভাব বিস্তার করেন নেইমার। একটি দৃষ্টিনন্দন অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি আক্রমণভাগে ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়।তবে ম্যাচের শেষ দিকে ঘটে ভিন্ন ঘটনা।
৮৫তম মিনিটে দিয়েগো হার্নান্দেসের একটি কঠিন ট্যাকলের পর প্রতিক্রিয়া দেখানোয় হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন সাবেক বার্সেলোনা তারকা। যে কারণে মারাকানায় আগামী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দর্শক হিসেবেই থাকতে হবে তাকে।
ম্যাচ শেষে রেফারির কঠোর সমালোচনা করেন নেইমার। তার দাবি, পুরো ম্যাচে বারবার ফাউলের শিকার হলেও ন্যায্য বিচার পাননি তিনি।
স্পোরটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘সব সময়ই একই ঘটনা ঘটে। এটা অন্যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে পেছন থেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফাউল করা হয়েছে আমাকে। এটা প্রথমবার নয়, তৃতীয় বা চতুর্থবার। আমি শুধু অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, “আপনি কি পাগল?” আর তখনই আমাকে হলুদ কার্ড দেওয়া হলো।’
রেফারির আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।নেইমার বলেন, ‘সে এমন একজন রেফারি, যে নিজেই ম্যাচের নায়ক হতে চায়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার সম্মানবোধের ঘাটতি রয়েছে। শুধু আমার সঙ্গে নয়, রেমোর খেলোয়াড়দের সঙ্গেও একই আচরণ করেছে। তার সঙ্গে কথা বলাই যাচ্ছিল না। এই বিষয়গুলো ঠিক হওয়া দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেফারিই ম্যাচ পরিচালনা করবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু খেলোয়াড়রা প্রশ্ন করতেই পারে, অভিযোগ জানাতেই পারে। সেগুলো সামলাতে জানতে হবে। এভাবে আচরণ করলে পরিস্থিতি খুবই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।’
নেইমারের নিষেধাজ্ঞা সান্তোসের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। কোচ কুকা ইতোমধ্যেই চোট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্বল স্কোয়াড নিয়ে ভুগছেন। একই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না আরেক আক্রমণভাগের খেলোয়াড় রনি।
এছাড়া চোটের কারণে দলে নেই ভিনিসিয়ুস লিরা, মাইকে এবং গাব্রিয়েল মেনিনো। ফলে রিও ডি জেনেইরোর শক্তিশালী ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে সান্তোসের আক্রমণভাগ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গ্যাব্রিয়েল বারবোসা দ্রুত সুস্থ হয়ে দলে ফিরবেন, এমন আশাই করছেন কোচ কুকা, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কিছুটা শক্তি ফিরে পায় দলটি।